আলোচনা সভায় বক্তারা
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানে সরকার

সংগৃহীত ছবি
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে বিএনপি সরকারের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে, এমনটিই মনে করছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উঠে আসে এসব কথা।
সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানালেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিএনপি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করলেও জামায়াত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না। তার অভিযোগ, সরকার আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি দল ছিল। এরপর দলটি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে।
সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলছিলেন, ‘সরকারের মুখে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, তা জনগণ কল্পনাও করেনি।’
বিএনপি নিজেরাই জুলাইয়ে ৮৪৮ জন কর্মী নিহত হওয়ার কথা বলেছে উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।’
‘শেখ হাসিনা জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন। বিএনপিরও একই ভুল করা উচিত হবে না’, যোগ করেন মজিবুর রহমান মঞ্জু।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বললেন, ‘সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।’
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে, সরাসরিই এ অভিযোগ করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বললেন, সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে সরকার। তার মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন।
জুলাই সনদ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার পরিস্থিতিকে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বললেন, ‘রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।’



