মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, এবার লক্ষ্য টেকসই সমৃদ্ধি

মো. মামুন হাসান
নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, প্লাবনভূমি আর বঙ্গোপসাগর-বাংলাদেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জল ও জলজ সম্পদের সম্পর্ক গভীর। মাছ তাই শুধু এ দেশের মানুষের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুষ্টি, কর্মসংস্থান, জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতি। উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সাফল্য পেরিয়ে এখন এই খাতের সামনে নতুন লক্ষ্য-নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই সমৃদ্ধি। দেশের অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ লাখ হেক্টর এবং বদ্ধ জলাশয় রয়েছে ৮ দশমিক ৫ লাখ হেক্টর। এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্তৃত ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমা আমাদের মৎস্য সম্পদের অন্যতম প্রধান ভাণ্ডার।
‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। এবারের মৎস্য পক্ষ শুধু উৎপাদনে অর্জিত সাফল্য উদ্যাপনের আয়োজন নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলজ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রত্যয়।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট মৎস্য উৎপাদন ৫২ দশমিক ৫৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। আমাদের খাদ্যে প্রাপ্ত প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ যোগান দেয় মাছ। মাথাপিছু দৈনিক মাছ গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারিত চাহিদা ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রামে উন্নীত হয়েছে। ফলে দেশের মানুষের পুষ্টি ও প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্যখাতের অবদান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতেও এ খাতের গুরুত্ব বাড়ছে। জাতীয় জিডিপিতে মৎস্যখাতের অবদান ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ, কৃষিজ জিডিপিতে ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং মৎস্যখাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ মাছ এখন শুধু মানুষের পুষ্টির উৎস নয়, কর্মসংস্থান, আয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও বড় ভিত্তি।
মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার-২০২৪’ শিরোনামের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয়, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জলাশয়ে ক্রাস্টাশিয়া আহরণে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। এ অর্জনের পেছনে রয়েছে মৎস্যচাষি, জেলে, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা।
উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৮২৭টি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৮১ দশমিক ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫৪টি অভয়াশ্রমের ব্যবস্থাপনা ও মেরামত করা হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হয়েছে ১২০টি প্রদর্শনী খামার ও ৩২টি অভয়াশ্রম। জলাশয় সংকোচন, দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে অনেক দেশীয় মাছ অস্তিত্বের ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র ও আবাসস্থল রক্ষা এখন মৎস্য ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য অংশ।
দেশের জলজ জীববৈচিত্র্যে প্রায় ২৬০ প্রজাতির মিঠাপানির এবং ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। তবে মিঠাপানির মাছের মধ্যে ৬৪টি প্রজাতি বর্তমানে বিভিন্ন মাত্রায় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এসব মূল্যবান মাছ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ধারাবাহিক গবেষণার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪১টি বিপন্ন প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন, পোনা উৎপাদন এবং চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগের সুফল হিসেবে একসময় হারিয়ে যেতে বসা অনেক দেশীয় মাছ আবারও প্রাকৃতিক জলাশয়ে ফিরে আসছে এবং বাজারেও এসব মাছের উপস্থিতি ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ মৎস্যখাতের সাফল্যের অন্যতম প্রতীক। অতিআহরণ, নির্বিচারে জাটকা নিধন ও জলবায়ু পরিবর্তন ইলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ২০০৩-০৪ সালে প্রণীত ‘হিলশা ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর ভিত্তিতে সংরক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভয়াশ্রম, নিষেধাজ্ঞা, নজরদারি, জেলেদের সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ইলিশ আহরণ হয়েছে ৫ লাখ মেট্রিক টন, যা মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ। ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে ৬টি অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৪৩২ কিলোমিটার। ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলেদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী এবং ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৪১ জেলে পরিবারকে ভিজিএফের চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ১৫ হাজার ৫০৩ দশমিক ৫০১ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচিতে চার মাসে ৫৮ হাজার ৭২০ দশমিক ১৬১ মেট্রিক টন এবং সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬১০ দশমিক ৭০১ মেট্রিক টন চাল।
মানবিক সহায়তার আওতায় মাছ ধরতে গিয়ে নিহত ২৬ জেলের পরিবারকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা এবং নিখোঁজ ১৩ জেলের পরিবারকে একই পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অক্ষম একজন জেলেকে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। এর লক্ষ্য শুধু সাময়িক খাদ্যনিরাপত্তা নয়; নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জেলেদের অংশগ্রহণ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো।
মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানিতেও বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ১৪৪ দশমিক ৯১ কোটি টাকা মূল্যমানের ৯০ হাজার ৬১৯ দশমিক ৪২ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য রপ্তানি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চিংড়ি উৎপাদনে ক্লাস্টার পদ্ধতি, মাননিয়ন্ত্রণে এইচএসিসিপি পদ্ধতি, বিশ্বমানের মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার এবং ই-ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শুধু বেশি মাছ উৎপাদন করলেই হবে না; উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা, গুণগত মান ও পরিবেশগত মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।
রপ্তানিমুখী মৎস্যপণ্যের মধ্যে চিংড়ির গুরুত্ব বিশেষ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ২ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন এবং এসপিএফ বাগদা চিংড়ির পিএল উৎপাদন হয়েছে ১৮১ কোটি। চিংড়ি চাষে ক্লাস্টারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় চিংড়ি এস্টেটের জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে।
উপকূলীয় চিংড়ি চাষকে পরিবেশসহনশীল করতে স্যালিনিটি ম্যাপিং, হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভে এবং চিংড়ি খামারসংলগ্ন ৩৪টি খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো।
বাংলাদেশের মৎস্যখাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বড় অংশ রয়েছে বঙ্গোপসাগরে। প্রতি বছর ৫৮ দিন সব ধরনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। আর.ভি. মীন সন্ধানী দিয়ে ৬২টি সমুদ্র জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ডক্টর ফ্রিটজফ ন্যানসেন ফিশারিজ অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সার্ভে ২০২৫ পরিচালনা করা হয়েছে। সার্ভে বাংলাদেশের জন্য নতুন ৬৫টি সামুদ্রিক প্রজাতি শনাক্ত এবং ৫টি সম্ভাব্য নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে।
কুয়াকাটা ও সলিমপুরে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রায় ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এলাকায় সংরক্ষিত এলাকা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে মেরিন রিজার্ভ, নিঝুমদ্বীপ সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা এবং নাফ সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে। ফলে দেশের সামুদ্রিক জলসীমার ৮ হাজার ১০১ বর্গকিলোমিটার (৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ) এলাকাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ১৪ দশমিক ৫) অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এসব উদ্যোগ দেশের মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে মৎস্য খাত বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মৎস্যখাতের ভবিষ্যৎ যে প্রযুক্তিনির্ভর হবে, তার প্রমাণ সরকারি মৎস্য খামারগুলোর আধুনিকায়ন। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩১টি খামারে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে নিবিড় চাষ প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারি খামারে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)-ভিত্তিক বটমলাইনার প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মৎস্যখাতের অর্জন নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে উৎপাদনের সঙ্গে সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্যের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় সংকোচন, দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ, রোগবালাই এবং উৎপাদন উপকরণের মান-সবই সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য জাতীয় মৎস্য নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়ন, জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ, স্মার্ট ও আইওটি-ভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের মাছ উদ্ভাবন, রোগমুক্ত পোনা উৎপাদন এবং হ্যাচারিতে পিসিআর সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের মৎস্যখাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। লক্ষ্য শুধু আরও বেশি মাছ উৎপাদন নয়; লক্ষ্য নিরাপদ মাছ, সুস্থ জলজ পরিবেশ, সুরক্ষিত জেলে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি। নদী, হাওর, বিল, প্লাবনভূমি ও বঙ্গোপসাগরের জলজ সম্পদকে সুরক্ষিত রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে পারলে মৎস্যখাত ভবিষ্যতে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আরও বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণতার অর্জনকে এবার টেকসই সমৃদ্ধিতে রূপ দেওয়াই সময়ের দাবি। রাষ্ট্র, মৎস্যচাষি, জেলে, গবেষক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণেই সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
লেখক: মো. মামুন হাসান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার






