পুলিশের ‘খেলোয়াড়-বন্দনা’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর,
মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ,
মহাশয়, পুলিশি ‘মারদাঙ্গা’ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা দেখে নাগরিক হিসেবে আহ্লাদিত হব কি না, বুঝতে পারছি না। সম্প্রতি চট্টগ্রামে আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে আপনাদের লালখান বাজার আর খুলশী থানার বীর পুঙ্গবেরা যা করলেন, তা দেখেই আসলে আমি লা-জবাব, বাকরুদ্ধ।
বিমানের সফর চুকিয়ে ছেলেটি যখন বাড়ি ফিরছিল, তখনই আপনার অতি-উৎসাহী বাহিনী আর তাদের ‘সোর্স’ মিলে পথ রোধ করল। চোরাচালানের গোপন তথ্য ছিল বলে কথা! তা, সেই তথ্যের মহিমায় ব্যাগের চেন না খুলে ক্রিকেটারের টুঁটি চেপে ধরাটাকেই আপনার জওয়ানরা যুক্তিযুক্ত মনে করলেন। এখানেই শেষ নয়, থানায় নিয়ে গিয়ে ওসির সেই ধমক— ‘চোখ নামিয়ে কথা বল, তুই আসামি!’ সত্যি, অপরাধী তকমা দেওয়ার এমন অনাবিল অধিকার কেবল আপনাদেরই! এমনকি ক্রিকেট বোর্ডের নবনিযুক্ত সর্বেসর্বা তামিম ইকবালকে ফোনে যেভাবে বুক চিতিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হলো, তা রীতিমতো অস্কার পাওয়ার যোগ্য অভিনয়। অবশ্য পরে জানা গেল, সমর্থকদের ভিড় আর ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির এক ফোনেই ওসির সুর ‘ভাইয়া আপনি বসেন’-এ রূপ নিয়েছে।
আপনাদের এই ‘খেলোয়াড়-বন্দনা’ নতুন নয়। ঠিক কুড়ি বছর আগে, ২০০৬ সালের ২ অক্টোবরের সেই সোনালি দিনের কথা মনে পড়ে? ঢাকার গুলশানে জাতীয় শুটিং ফেডারেশনের সামনে সামান্য গাড়ি পার্কিংয়ের জেরে কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী শুটার আসিফ হোসেন খানকে আপনাদের বাহিনী যেভাবে পিটিয়েছিল, তা আজও চোখে জল এনে দেয়। আসিফ সোনা এনেছিলেন দেশের জন্য আর গুলশান থানা প্রতিদানে তার বাঁ হাতখানি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সরকারি কাজে বাধাদানের ক্লিশে মিথ্যা মামলা দিয়ে আসিফসহ পাঁচজনকে শ্রীঘরে পুরে তবেই শান্ত হয়েছিল পুলিশ। আপনাদের মারের চোটে বেচারা আসিফের ক্যারিয়ারটাই ধ্বংস হয়ে গেল।
আজ ২০২৬ সালেও দেখছি সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে! ক্রীড়াবিদদের এভাবে ‘সম্মান’ জানানোতে আপনাদের ধারাবাহিকতা অতুলনীয়। অবশ্য এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনা প্রচার পেলে তড়িঘড়ি ওসি প্রত্যাহার আর দুই পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মনে যে প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে— আমজনতার কপালে কী জোটে? নাঈম ঠিকই বলেছেন, আজ তিনি রুখে না দাঁড়ালে কাল হয়তো কোনো সাধারণ মানুষের লাশকাটা ঘরে যাওয়ার খবর আসত। মাননীয় আইজি সাহেব, এই লাঠিপেটার সংস্কৃতি আর কতদিন?
বিনীত,
এক ক্রীড়াপ্রেমী অভাজন




