Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন রায়হান

রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন রায়হান

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

উগ্রবাদী তৎপরতাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই

সাঈদ জুবেরী
সাঈদ জুবেরী
agamir somoy
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২
উগ্রবাদী তৎপরতাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম সাখাওয়াত হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। নির্বাচন কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে লেখালেখি করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আগামীর সময় তার মুখোমুখি হয়েছিল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদ জুবেরী

প্রশ্ন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আপনাকে যখন অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে নেওয়া হলো, সেই সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন: ওটা তো পাস্ট সাইড (অতীত বিষয়)। ওটা এখন মূল্যায়ন করে কী হবে? ওটা নিয়ে এখন মূল্যায়ন করে কোনো লাভ আছে বলে আমি মনে করি না। না, অবশ্যই লাভ নাই। আসুন, আমরা পরবর্তী প্রশ্নে চলে যাই।

প্রশ্ন: ‘কিচেন কেবিনেট’ বিষয়ে আপনার মন্তব্য বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই ‘কিচেন কেবিনেট’ সরকারের নীতিনির্ধারণে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন: দেখুন, ‘কিচেন কেবিনেট’ কোনো নতুন বিষয় নয়। এর ইতিহাস এসেছে ব্রিটেন থেকে, গুগলেই এটি পাবেন। সব সরকারের সময়ই একটা ছোট্ট গ্রুপ বা কমিটি থাকে, যেখানে শুধু মন্ত্রীরাই থাকবেন এমন কোনো কথা নেই; উপদেষ্টাদের বাইরেও অনেকে থাকতে পারেন।

আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেও প্রস্তুত ছিল, এখনো আছে। পঞ্চাশ-ষাট বছর পর একটা দেশের গোয়েন্দা বাহিনী যদি ক্যাপেবল বা সক্ষম না হয়, তবে তা দুঃখজনক। ক্যাপাসিটি অবশ্যই আছে, তবে মূল বিষয় হলো আপনি তাদের দিয়ে কীভাবে কাজ করাবেন এবং কী চাচ্ছেন। সিকিউরিটি এবং ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশনে খুব ফার্ম বা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেখানে কে খুশি হলো আর কে আপনার বিরুদ্ধে কথা বলল, তা ভাবলে চলবে না

ডে টু ডে বা প্রতিদিনের অনেক গুরুতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যেগুলোর প্রাথমিক আলোচনা কিন্তু মূল কেবিনেটে (মন্ত্রিসভায়) হয় না। আইডিয়াটা আসে একটা ছোট গ্রুপ থেকে এবং তাদের আলোচনার পর সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যায়ে ক্যাবিনেটে আনা হয়। যেমন—মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির কথাই ধরুন। এটি নিয়ে প্রথম থেকে পুরো কেবিনেটে প্রোপার ডিবেট বা আলোচনা হয়নি। ড্রাফট তৈরি হওয়ার পর একদম শেষ পর্যায়ে যখন এটি গৃহীত হবে, তখন কেবিনেটে আনা হয়েছিল। তখন আমি একা নই, পরবর্তী সময়ে অনেকেই এই কথা বলেছিলেন। এর নেতিবাচক বা ইতিবাচক প্রভাবের কথা যদি বলেন, তবে সেটি এখনো পাবলিক জানতে পারছে না। কারণ, সংসদ বা অন্য কোথাও এটি নিয়ে আলোচনা নেই; রাজনৈতিক দলগুলো তো এ নিয়ে কিছুই বলছে না।

প্রশ্ন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে মব, মাজার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একের পর এক হামলা এবং সংবাদপত্র অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে তখন আপনি কীভাবে দেখছিলেন? সরকার কি আপনার কোনো পরামর্শ চেয়েছিল?

এম সাখাওয়াত হোসেন: আমি কেবিনেটে থাকলেও তৎকালীন এমন মন্ত্রণালয়ে ছিলাম, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমার সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল না। তা ছাড়া আমি বেশিরভাগ সময় ঢাকার বাইরে চর এলাকাগুলোতে (হাতিয়া, সন্দ্বীপ, ঢালচর, মনপুরা) এবং নদী ও স্থলবন্দরগুলোতে ডিসিপ্লিন আনার জন্য ঘুরছিলাম।

তবে এই মব রোধ করা আমাদের উচিত ছিল এবং সেখানে আমরা ব্যর্থ হয়েছি— এতে কোনো সন্দেহ নেই। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশ বাহিনীর যারা দায়িত্বে ছিলেন, এটি তাদের একটি বড় ব্যর্থতা। বিশেষ করে শহরের মেইন রোডের ওপরে দুটি পত্রিকার অফিসে যখন হামলা হলো, তখন পুলিশ ফোর্স নিষ্ক্রিয় ছিল। এই দায় প্রাথমিক ও যৌথভাবে কেবিনেটকেও নিতে হবে।

আর আপনি যেটা বললেন পরামর্শের কথা, আমি তখন ঢাকার বাইরে এবং চরাঞ্চলে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ওই মুহূর্তে কেবিনেট থেকে আলাদাভাবে আমার কোনো পরামর্শ চাওয়া হয়নি। পরে টেলিভিশনে দেখলাম যে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙা হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো নিয়ে কিছু প্রচারণা বাইরে থেকে হচ্ছিল, আবার কিছু প্রচারণা ভেতর থেকেও হচ্ছিল। অবশ্য পরে এগুলো নিয়ে কিছুটা আলোচনা হয়েছিল। তবে পুরো বিষয়টিই অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমি বলব, এটি আমাদের কেবিনেটের একটি বড় ফেইলিওর (ব্যর্থতা)।

পুলিশ এবং ল ইনফোর্সিং এজেন্সির মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন। পুলিশের ভেতরের সাধারণ ক্ষোভ ও ট্রমা বুঝতে হবে। তাদের মনে এখন বড় প্রশ্ন— ‘আমাদের প্রটেক্ট করবে কে?’

প্রশ্ন: রাষ্ট্র কি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে, নাকি এর পেছনে গভীর কোনো প্রশাসনিক সংকট রয়েছে?

এম সাখাওয়াত হোসেন: এখানে সবকিছু মিলিয়ে একটি গভীর সংকট আছে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। রাষ্ট্রে কোনো কাঠামো ছিল না, পুরো অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ল এনফোর্সিং এজেন্সি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল— এককথায় একটি ভঙ্গুর সোসাইটি।

এই ভঙ্গুর অবস্থা ১২ বা ১৫ মাসে পুরোপুরি ঠিক করা সম্ভব নয়। সমাজে এখন দুই পাড়েই এক্সট্রিম বা চরমপন্থী এলিমেন্ট আছে। অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না; রিটায়ারমেন্টের পর যাদের আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তাদের সঙ্গে অন্যরা কোঅপারেশন করছে না। সব মিলিয়ে একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা। তা ছাড়া একটা বিশাল পলিটিক্যাল পার্টিকে নিষিদ্ধ করলেই তাদের লাখ লাখ কর্মী তো বুদবুদের মতো হাওয়া হয়ে যাবে না। তারা মাঠেই আছে এবং তারা চাইছে এই সরকার যাতে স্টেবল বা স্থিতিশীল হতে না পারে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই সংকটটি দেখতে হবে।

প্রশ্ন: সম্প্রতি দেশ জুড়ে সুসংগঠিতভাবে আইএসের (ISIS) মতো পতাকা উত্তোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করার মতো ঘটনা ঘটেছে। অথচ পুলিশ শুধু ‘খুঁজছে’ বলেই দায় সারছে। বাংলাদেশে কি নতুন কোনো উগ্রবাদের উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

এম সাখাওয়াত হোসেন: এটাকে আমি এখনই সরাসরি উগ্রবাদ না বলে সাময়িক উত্তেজনা বা অন্য কোনো কারণ বলতে চাই। তবে হ্যাঁ, এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি যদি সরকারের নীতিবহির্ভূত হয়, তবে ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল সিকিউরিটির পয়েন্ট অব ভিউ থেকে একে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে এবং অ্যাকশন নিতে হবে। তা না হলে এটি কালকে একটি বড় প্রোপাগান্ডার জায়গা তৈরি করবে, যা দেশের জন্য মঙ্গলময় হবে না।

প্রশ্ন: শারীরিক প্রশিক্ষণ বা ব্যায়ামের আড়ালে উগ্রবাদী প্রচারণার দায়ে সম্প্রতি কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অনেকে একে ‘সাধারণ জুডো বা ব্যায়াম’ বলে হালকা করার চেষ্টা করছেন। উগ্রপন্থীদের এই নতুন কৌশল ও রিক্রুটমেন্ট প্রসেসকে রুখতে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি কতটুকু?

এম সাখাওয়াত হোসেন: আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেও প্রস্তুত ছিল, এখনো আছে। পঞ্চাশ-ষাট বছর পর একটা দেশের গোয়েন্দা বাহিনী যদি ক্যাপেবল বা সক্ষম না হয়, তবে তা দুঃখজনক। ক্যাপাসিটি অবশ্যই আছে, তবে মূল বিষয় হলো আপনি তাদের দিয়ে কীভাবে কাজ করাবেন এবং কী চাচ্ছেন। সিকিউরিটি এবং ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশনে খুব ফার্ম বা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেখানে কে খুশি হলো আর কে আপনার বিরুদ্ধে কথা বলল, তা ভাবলে চলবে না।

প্রশ্ন: অনেকেই ২০০৫ সালের জেএমবি, ‘বাংলাভাই’-এর তাণ্ডব কিংবা ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলার সেই অন্ধকার সময়ের কথা স্মরণ করছেন। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

এম সাখাওয়াত হোসেন: অতীতে তৎকালীন সরকার এগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে হালকা করার চেষ্টা করেছিল। সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলতে বলতে একসময় সারা দুনিয়াতে বাংলাদেশের একটা বিরূপ ভাবমূর্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেখানে পলিটিকস ও পলিটিক্যাল এজেন্ডা ছিল। তবে ২০০৫ আর ২০২৬ এক নয়; এখন সিচুয়েশন পাল্টেছে, ওয়ার্ল্ড পাল্টেছে। বর্তমান সরকারকে দেখতে হবে, তারা এই ধরনের বিপদে পড়লে পরিস্থিতি শক্ত হাতে সামলাতে পারবে কি না। কোনো কিছুই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: ক্ষমতাচ্যুত এবং পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে নিয়ে এখনো রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। দলটির বর্তমান অবস্থা এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের পুনর্বাসন বা ফেরার সম্ভাবনাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন: আমি পরিষ্কার করে বলি— আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন, তারা টোটালি ফেইল করেছেন। তারা গুম, খুন ও অরাজকতার মাধ্যমে একটা ভয়াবহ রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন, সমস্ত স্টেটকে পলিটিক্যালি ক্যাপচার করেছিলেন। জুলাই আপরাইজিং বা গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশকে যেভাবে রক্তাক্ত অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তার বিচার হতেই হবে। বিচার শেষ হওয়ার পর যারা অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নিতে হবে।

এরপর সরকার চিন্তা করবে যে পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে তারা কাজ করতে পারবে কি পারবে না। তবে আজ পর্যন্ত ওই পার্টি একবারও স্বীকার করেনি যে তারা অন্যায় করেছে বা তারা ক্ষমাপ্রার্থী। বরং তারা দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপানোর অজুহাত খুঁজছে। সিভিল পোশাকে কার হাতে রাইফেল ছিল, কারা হেলিকপ্টার বা স্নাইপার ব্যবহার করে গুলি করেছে— এসবের প্রোপার ইনকোয়ারি (তদন্ত) হওয়া দরকার। অপরাধীদের ক্লিন না হওয়া পর্যন্ত এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয়।

প্রশ্ন: ওই সময় সিভিলিয়ানদের হাতে অস্ত্র যাওয়া কিংবা ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেটের ব্যবহার নিয়ে আপনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে তো আপনার সরে যেতে হয়...

এম সাখাওয়াত হোসেন: শোনেন, আপনারা যদি আমার কথা না বুঝতে পারেন, আমি বারবার এক কথা বলব না। এই সিভিলিয়ান পোশাকে মানুষের হাতে অস্ত্র— এটা আপনারা ভিডিও দেখলেই পাবেন। এগুলো কার কাছ থেকে গেছে? কে দিয়েছে? ওই সময়কার সরকারের মাধ্যমেই তো গেছে, তাই না? পুলিশের ওয়েপন (অস্ত্র) কীভাবে সিভিলিয়ানের হাতে যায়? ল এনফোর্সিং এজেন্সির ওয়েপন কার হাতে গিয়েছিল?

আমি তো তখন দায়িত্বে ছিলাম বলেই বলেছিলাম যে এটার ইনকোয়ারি (তদন্ত) করা উচিত যে এরা কারা। আমি নিজে ভিডিওতে দেখেছি, স্বচক্ষে দেখেছি হেলমেট পরে তারা দাঁড়িয়েছিল। এটা তো আজকের কথা না, যখন ছোট বাচ্চারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করছিল, তখন কারা মেরেছিল? হু ওয়াজ দিস পিপল (কারা ছিল এই লোকগুলো)? আপনারা জানেন না?

আমি যখন এটা নিয়ে তদন্ত করার কথা বললাম, তখন এটা একটা বিশাল ইস্যু হয়ে গেল। আপনারা মিডিয়ারাই তো এটা করেন, আমি দেখি আমার নামে একটা হেডিং বের হয়— ভেতরে কিছুই নাই। আপনি যদি আমার কথা না বুঝে সেটাকে টুইস্ট করতে চান, করতেই পারেন। কিন্তু কথা খুব পরিষ্কার— সিভিল পোশাকে অনেকের হাতে রাইফেল ছিল, যারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এর ভিডিও রেকর্ড আছে। এগুলো তো আর ৫০ বছর আগের কাহিনি না যে আমি শুনে শুনে বলছি।

পুলিশের হাতে যে ক্যালিবারের রাইফেল থাকার কথা, এগুলো সিভিলিয়ানদের হাতে কেন এবং কীভাবে গেল, তা আমি দায়িত্বে থাকলে অবশ্যই ইনকোয়ারি করতাম। আমরা অনেক আগে থেকেই ‘হেলমেট বাহিনী’ চিনি, তাই না? এই সরকারই বা কেন একটা প্রোপার ইনকোয়ারি করে এটা পরিষ্কার করছে না, তা আমি জানি না।

প্রশ্ন: বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতায় উগ্রবাদী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ ধারার ইসলামি দলগুলোর কাঁধে ভর করে মূলধারায় আসার চেষ্টা করছে কি না?

এম সাখাওয়াত হোসেন: চরমপন্থী বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর একেক সময় একেক ডেফিনিশন (সংজ্ঞা) থাকে। বিগত বছরগুলোতে যারা অপজিশনে ছিল, তাদেরও এই নামে ডাকা হয়েছে। তারা তো এখন আবার বুক ফুলিয়ে সংসদেও আছেন। এখন যারা নেতৃত্বে আছেন, তারা সবাই তো আর ৭১-এর আগের লিডার নন। আমি এ বিষয়ে কমেন্ট করতে পারব না।

প্রশ্ন: আপনি যাদের কথা বলছেন (জামায়াতে ইসলামী), অতীতে তো তাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে কয়েকজনকে ফাঁসিতেও ঝোলানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের স্পষ্ট কোনো অনুশোচনা বা স্টেটমেন্ট ছাড়াই তারা মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এবং সংসদেও বসছে। এই বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন: দেখুন, অতীতের ওই অপরাধের কারণে তো তাদের কয়েকজনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, তাই না? ফাঁসিতে তো তারা ঝুলেছে। এখন ওই দলের নেতৃত্বে বর্তমানে যারা আছেন, তারা তো ওই পাস্ট বার্ডেন (অতীতের দায়) বহন করছেন। আর বর্তমান নেতৃত্বের সবাই তো আর একাত্তরের আগের লিডার বা নেতা নন।

তবে তারা কীভাবে এস্টাবলিশড হয়ে গেছে— সেটার উত্তর কিন্তু আমি দিতে পারব না। এটার উত্তর দেবে বর্তমানে যারা সংসদে আছেন বা সংসদ পরিচালনা করছেন তারা। আই ক্যান নট কমেন্ট অন দিস (আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না)।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, মব কালচার এবং উগ্রবাদের উত্থানের চেষ্টার সঙ্গে ভূরাজনীতির সম্পর্ক কতটা? বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এখন কোন পর্যায়ে?

এম সাখাওয়াত হোসেন: আমাদের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে ভীষণ ড্যামেজ (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়ে আছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেই এগুলো নিয়ে বেশি প্রোপাগান্ডা, চর্চা এবং আলোচনা হচ্ছে। এর একটা প্রোপাগান্ডা ভ্যালু বা নিউসেন্স ভ্যালু সবসময় থাকে। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি দ্রুত ঠিক না হয়, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের ওপর নিশ্চিতভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয়, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনেরও কিছু ক্ষেত্রে একটা রেডিক্যাল ফোর্স গ্রো করছে বা তারা চিন্তাভাবনার দিক থেকে ‘রেডিক্যালাইজেশন’ (চরমপন্থা)-এর দিকে যাচ্ছে?

এম সাখাওয়াত হোসেন: আমি তো জানি না, র‍্যাডিক্যালাইজেশন বলতে আসলে আপনার ডেফিনেশন (সংজ্ঞা) কী? পলিটিক্যালি একটা মোটিভেশন? র‍্যাডিক্যালাইজেশন মানে তো হচ্ছে আমি আমার মতবাদটাকে অন্যের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেব।

তো, এখন সে রকম জোর করে চাপানো তো আমার নজরে পড়েনি যে আপনাকে কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলছে— ‘আজকের থেকে বোরকা না পরলে আমরা মারব।’ কেউ কি এ কথা বলেছে? না।

তবে হ্যাঁ, এই ধরনের অপরাধ বা প্রবণতা যখন সামনে আসে, তখন সেগুলোকে সফটলি (নরমভাবে) হ্যান্ডেল করা বা এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। আমি তো বলেছি যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন থেকে শুরু করে স্ট্রাকচারাল পরিবর্তন— সবই করতে হবে। এখন দুই মিনিটে তো আমার সব আইডিয়া আপনাকে বলতে পারব না, এটা ডিফিকাল্ট।

এগুলো নিয়ে সমাজে যারা আরও আছেন, যারা আমার চেয়ে ভালো বোঝেন, প্র্যাকটিশনারদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে একটা দিকনির্দেশনা নেওয়া উচিত। পরিবর্তন আনতে গেলে সময় যেমন দিতে হবে, তেমনি বহু মানুষের সঙ্গে বসতে হবে, কথা বলতে হবে। তা না হলে গতানুগতিক সিস্টেমই চলবে— আজ আপনি আমাকে মারবেন, কাল আমি আপনাকে মারব। এভাবে আর কত চলবে? ৫০ বছর একটা দেশ হয়ে গেছে, আমরা এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো চিন্তাভাবনা করতে পারি না! এখন প্রয়োজন হচ্ছে সবার শান্তভাবে বসা।

প্রশ্ন: দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় এই মুহূর্তে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং সরকারের জন্য আপনার মূল পরামর্শ কী থাকবে?

এম সাখাওয়াত হোসেন: রাষ্ট্র পরিচালিত হয় একটি কালেক্টিভ বডি বা যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে। সরকারকে আরও কিছু ডেমোনস্ট্রেটিভ বা কঠোর অ্যাকশন নিতে হবে, যাতে সেটি উদাহরণ হিসেবে থাকে (যেমন— জোরপূর্বক চেকে সই করানোর মতো ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া)।

সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পুলিশ এবং ল ইনফোর্সিং এজেন্সির মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন। পুলিশের ভেতরের সাধারণ ক্ষোভ ও ট্রমা বুঝতে হবে। তাদের মনে এখন বড় প্রশ্ন— ‘আমাদের প্রটেক্ট করবে কে?’ তারা অ্যাকশনে গেলে তাদের পিঠ কে বাঁচাবে? কেবল ফিজিক্যাল চেঞ্জ বা লোক বদল করে ফোর্স কার্যকর করা যাবে না।

সামরিক বাহিনী বা পুলিশ— সব জায়গাতেই ‘আমার লোক, তোমার লোক’ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। সম্পূর্ণ মেরিটের (যোগ্যতার) ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদায়ন করতে হবে এবং বাহিনীকে প্রটেকশন দিতে হবে।

এম সাখাওয়াত হোসেনঅন্তর্বর্তী সরকারউপদেষ্টানির্বাচন কমিশনাররাজনীতিসেনা কর্মকর্তাউগ্রবাদী তৎপরতাকিচেন কেবিনেটস্বরাষ্ট্র উপদেষ্টামব
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ১৯ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    ফ্রান্স
    ০
    ইংল্যান্ড
    ০
    ২০ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    আর্জেন্টিনা
    ০
    স্পেন
    ০
    advertisement
    advertisement
    মশার কয়েলে পুড়ল কাগজ ও ভাঙারির গুদাম

    মশার কয়েলে পুড়ল কাগজ ও ভাঙারির গুদাম

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০০:৫২

    ঢাবিতে রবিবার জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন

    ঢাবিতে রবিবার জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০৮

    মেক্সিকো উপকূলে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

    মেক্সিকো উপকূলে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০০:২৮

    কাতারের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের, নীরব ওয়াশিংটন

    কাতারের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের, নীরব ওয়াশিংটন

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪

    জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫

    রথযাত্রায় পরিবারের সদস্যরা, বাসায় একা থাকা নারীকে হত্যা

    রথযাত্রায় পরিবারের সদস্যরা, বাসায় একা থাকা নারীকে হত্যা

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৪

    ভারতের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

    ভারতের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫

    দিনে ডজন স্কুপ আইসক্রিম

    দিনে ডজন স্কুপ আইসক্রিম

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭

    পিরিয়ডকে ক্যান্সার ভেবেছিলেন ধুরন্ধর সিনেমার গায়িকা

    পিরিয়ডকে ক্যান্সার ভেবেছিলেন ধুরন্ধর সিনেমার গায়িকা

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭

    স্পেন জিততে চায় মাঝমাঠে

    স্পেন জিততে চায় মাঝমাঠে

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০

    রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন রায়হান

    রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন রায়হান

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯

    নেদারল্যান্ডসে পানিশূন্যতা

    নেদারল্যান্ডসে পানিশূন্যতা

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০

    চালু হচ্ছে সেই রাইফেল ক্লাব

    চালু হচ্ছে সেই রাইফেল ক্লাব

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪০

    সুখী জীবন নির্ভর করে মনের শান্তির ওপর

    সুখী জীবন নির্ভর করে মনের শান্তির ওপর

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯

    সংকটের ভার বইছে ধানের মোকাম

    সংকটের ভার বইছে ধানের মোকাম

    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩

    advertiseadvertise