Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
রাস্তার পাশে খোরশেদের সোয়া লাখ তালগাছ
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

জনস্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ বিইআরসি

agamir somoy
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬
জনস্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ বিইআরসি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

পাইকারি ও গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে গত বুধবার। বরাবরের মতো এবারও এর পেছনে সরকারের যুক্তি— উৎপাদন খরচ বেড়েছে আর টানা সম্ভব নয় ভর্তুকির বোঝা। এসব নিয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদ জুবেরী

আগামীর সময়: আপনি বলেছেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি তার আইনি দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। কমিশনের ঠিক কোন কোন জায়গায় ব্যর্থতা ছিল, কেন তারা ভোক্তা স্বার্থরক্ষা করতে পারছে না?

ড. এম শামসুল আলম: কমিশনের প্রথম কাজ হচ্ছে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব যৌক্তিক এবং ন্যায়সংগত কি না, তা যাচাই করা। প্রস্তাব যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত না হলে তা খারিজ করতে হবে। সরকারের কোম্পানিগুলোকে যে মুনাফা দেওয়া হয়েছে সেখানে ‘রেট অব রিটার্নে’ যা ব্যয় হয়েছে, সব ব্যয় যোগ করে তার ওপর আরও বাড়তি অর্থ দেওয়া হয়েছে।


সরকারি সংস্থা কোম্পানি আইনে চলে না, কিন্তু তাদেরও মুনাফা দেওয়া হয়েছে। করপোরেট ট্যাক্স তো সবার কাছে থেকে নেওয়া হয়েছে। করপোরেট ট্যাক্স মুনাফার ওপরে নেওয়া হয়। কিন্তু তা না নিয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় থেকে নেওয়া হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি করে সব জনগণের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। এটা আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। মুনাফা হলে নেবেন, না হলে করপোরেট ট্যাক্স হবে না। আর নিলে করপোরেট ট্যাক্সের একটা পার্সেন্টেজ মুনাফা থেকে দিতে হবে। ২০২২ সালের পর বা তার আগে থেকে সরকারের যে নীতিমালা ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করতে যে পরিবর্তন করেছে, তাতে সবচেয়ে বেশি অবকাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে আরইবির (বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড)। তাদের বিতরণ ব্যয় অনেক বেশি বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো ৫ শতাংশ কমেছে। পিডিবিরও বাড়ার কথা। কিন্তু কমেছে ১৮ শতাংশ। তাহলে অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর ব্যয় বাড়ল কেন? এখানে বিইআরসি তাদের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

আগামীর সময়: দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি হলেও কমানোর প্রস্তাব নিয়ে কেন হয় না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন আপনি। ক্যাব বা জনগণের পক্ষ থেকে ব্যয় কমিয়ে মূল্য কমানোর যে প্রস্তাব আপনারা দিয়েছিলেন, বিইআরসি সেটাকে কীভাবে উপেক্ষা করল?

ড. এম শামসুল আলম: কোনো গণশুনানিতে প্রস্তাবকারী কর্তৃপক্ষ বিইআরসির কোনো প্রস্তাব ন্যায্য-যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারেনি। প্রতিবার আমি সেটা প্রমাণ করেছি। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব ন্যায্য কি না, তার থেকেও বড় কথা হচ্ছে এ প্রস্তাবগুলো যৌক্তিকভাবে তৈরি করা কি না। গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য এখানেই ব্যাহত এবং এখানেই বিইআরসি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিইআরসি বুঝতেই পারেনি যে, তারা কতখানি জনগণের স্বার্থ খর্ব করছে। তার মূল দায়িত্ব হচ্ছে ভোক্তার অধিকার রক্ষা করা এবং অসাধু ব্যবসা প্রতিরোধ করা।

আগামীর সময়: প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের মাধ্যমে একটি ‘কৃত্রিম ঘাটতি’ তৈরি করা হয়েছে। এ কৃত্রিম ঘাটতির পেছনে মূল সুবিধাভোগী কারা?

ড. এম শামসুল আলম: সমাজের এলিট পারসনরাও এসব পারপাসে পেছনের দরজায় তদবিরকারক হিসেবে বেনিফিটেড হয়েছে। বেনিফিশিয়ারির জায়গাগুলো সমাজে ছড়ানো ছিটানো। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব প্রক্রিয়ায়, এসব লুণ্ঠন প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগী। এই যে ৭০-৭২টি কোম্পানি আছে, প্রতিটি কোম্পানিতে দেখা যায়— এর প্রধান হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত সচিব। না হলে সরকারের সচিব, অতিরিক্ত সচিব। তারা এসব কোম্পানিতে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে। লুণ্ঠনের প্রক্রিয়ায় কোম্পানি স্ট্রাকচার তাদের প্রটেক্ট করে আর তারা একটা সুবিধা পায়।

বিইআরসির কোনো প্রস্তাব ন্যায্য-যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারেনি। প্রতিবার আমি সেটা প্রমাণ করেছি। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব ন্যায্য কি না, তার থেকেও বড় কথা হচ্ছে এ প্রস্তাবগুলো যৌক্তিকভাবে তৈরি করা কি না। গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য এখানেই ব্যাহত এবং এখানেই বিইআরসি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিইআরসি বুঝতেই পারেনি যে, তারা কতখানি জনগণের স্বার্থ খর্ব করছে

আগামীর সময়: দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট, অথচ সর্বোচ্চ চাহিদা মাত্র ১৭-১৮ হাজার মেগাওয়াট। এ বিশাল বাড়তি সক্ষমতা এবং এর পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকার ‘ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদ’ থেকে বের হওয়ার দ্রুততম উপায় কী?

ড. এম শামসুল আলম: বিদ্যুৎ খাতে যে অব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং যেসব কার্যক্রমের কারণে কোটি কোটি টাকার ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, আমি যেটাকে লুণ্ঠন বলছি— যারা করেছে তাদের বিচার করার প্রভিশন আছে বিআরসি আইনের ৪৬-এর আওতায়। দুর্নীতি দমন কমিশন তো আছেই। প্রশাসনিকভাবে রেগুলেটরি অথরিটির বিচার করার ক্ষমতা আছে। এ আইনের আওতায় চিরুনি অপারেশন পরিচালনা করলে দুর্নীতি নির্মূল করার বিষয়টি প্রথমেই প্রায়োরিটি পাবে। কারণ, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের কারণে জ্বালানি খাত এখন অসুস্থ এবং মৃত্যুশয্যায়। লুণ্ঠনকারী ব্যক্তিরা কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় লুণ্ঠন করেছে, তা চিহ্নিত করে সামনে আনলে পথগুলো বন্ধ হবে। এগুলো করলে যে শাস্তি ভোগ করতে হয় এবং দুর্নীতি করে যে অর্থবিত্ত অর্জিত হয়, সেগুলো যে হারাতে হয় এটা প্রতিষ্ঠিত করা হলে এ খাত সুস্থ হবে।

আগামীর সময়: জ্বালানি খাত সংস্কারে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নাকি নীতিগত অযোগ্যতা— কোনটি বেশি দায়ী?

ড. এম শামসুল আলম: এখানে সংস্কার বলতে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় নির্মূল করা। সংস্কারের নামে জনবল কমিয়ে দিলাম আর ব্যয় কমে গেল— বিষয়টি এরকম নয়। যে কাঠামোগত পরিবর্তন করে এরকম লুণ্ঠন করা হয়েছে, সেই কাঠামো ভেঙে নতুনভাবে নিয়ম, আইনকানুন সাজিয়ে লুণ্ঠন ‘প্রটেক্টেড’ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমি রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, এভাবে বলতে চাই না। আমি বলতে চাই রাষ্ট্রের সক্ষমতার অভাব। ব্যাপারটি এমন— বর্গিদের সঙ্গে আলিবর্দী খাঁ দেশের জানমাল সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা কম্প্রোমাইজ করেছিল। রাজস্বের এক-চতুর্থাংশ তিনি বর্গিদের দিয়ে দিয়েছিলেন। ওড়িশার দেশ তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছিল। আপনার তখন থেকেই সার্বভৌম ক্ষমতা আর অবস্থাটা এরকম ছিল। সেই অবস্থা কখনো উন্নত হয়েছে বলা যায় না। সে অবস্থা আরও ব্যাপক হয়েছে।

আতঙ্কের বিষয় যে, সরকারের এ কাঠামোগত প্রশাসন দিয়ে জনস্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না, এটাই তার প্রমাণ

ব্রিটিশরা প্রথমত বাণিজ্য দখল করল। পরে রাজস্ব দখল করল। তারপর তো দেশই দখল করে নিল। ২০০ বছর চালাল। এরপর পাকিস্তান এলো। বাংলাদেশ হলো। এরপর সরকার পরিবর্তন হলো। বর্তমানে যে পরিবর্তন ধারা জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করলাম বা অবস্থাগুলো সামনে এলো, সেখানেও আমরা দেখছি যে, রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা এসব অবস্থা প্রতিকারের জন্য খুবই দুর্বল। সমস্যা এখানেই। নীতি তো তখনই আসবে যখন আমার ক্ষমতা থাকবে। ক্ষমতা থাকলে আমি নীতি পরিবর্তন করে লুণ্ঠন করতে পারি আবার ক্ষমতা থাকলে সেটা প্রতিরোধ করতে পারি। আজকে আমেরিকার সঙ্গে যে ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে তো রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষত জ্বালানি সার্বভৌম ক্ষমতা যথেষ্ট সীমিত হয়ে এসেছে। রাষ্ট্র চাইলেই এখানে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে লাভজনক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। রাষ্ট্র তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে স্বাধীন নয়। চাইলেই সে ইরান থেকে তেল কিনতে পারবে না। রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবে না। সুতরাং এভাবে আমরা সীমাবদ্ধ হয়ে আছি।

আগামীর সময়: আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও পুরনো গ্যাসকূপ সংস্কারে সরকারের উদাসীনতার কারণ কী বলে আপনার মনে হয়?

ড. এম শামসুল আলম: নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান অব্যাহত রেখে আমরা আমাদের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর যে তৎপরতা-উদ্যোগ, তা সীমিত করে ফেলেছি। সে ব্যাপারেও যে কতখানি স্বাধীন এবং সক্ষম সে প্রশ্নও আছে। জ্বালানির ব্যবসাটা কৌশলগতভাবে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা থেকে অনেকে গোষ্ঠী বা ব্যক্তিবিশেষ লাভবান হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর পরের প্রশ্ন আসে যে, ক্রস বর্ডার এনার্জি ট্রেডিংয়ের। আমি ভুটান বা নেপাল থেকে অনেক কম খরচে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারি। কিন্তু নেপাল আমার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে না। তাকে বিক্রি করতে হবে ভারতের কাছে। সেই বিদ্যুৎ ভারত আমার কাছে বিক্রি করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করবে। আমার যদি সার্বভৌম ক্ষমতা সেই পর্যায়ে থাকত তাহলে এ সুবিধা ভারত নিতে পারত না। অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং পুরনো গ্যাসক্ষেত্র সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের রয়েছে উদাসীনতা। প্রথম কারণ হচ্ছে, এলএনজি মার্কেট। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বর্তমান সরকারের যে ধরনের কারিগরি, রাজনৈতিক সক্ষমতা থাকা দরকার তা নেই। এসব প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলকে এক অভিন্ন শক্তিতে শক্তিশালী হতে হবে। এটা মন্ত্রণালয়ে বসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এক্ষেত্রে সরকারকে বাইরে থেকে চাপে রাখতে হবে। সরকারকেও এ চাপ তৈরি করার জন্য জাতিকে শক্তিশালী করতে হবে। যাতে সরকারকে চাপ দেওয়ার মতো কারিগরি, বুদ্ধিভিত্তিক এবং সার্বভৌমগত সক্ষমতা জাতির থাকে। সরকার যদি জাতিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে ফেলে তাহলে সরকার নিজেই দুর্বল হবে। রাষ্ট্র দুর্বল হবে।

আগামীর সময়: বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, বাংলাদেশে মোট উৎপাদনের মাত্র ৪-৫ শতাংশ আসছে এই খাত থেকে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা ছোট ছোট সৌর প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল বাধা কোথায়?

ড. এম শামসুল আলম: প্রথমত বাধাটা হচ্ছে, এখানে কোটি কোটি টাকা লুণ্ঠন হয়ে গেছে। বাস্তবতা হলো—কয়লা, এলএনজি, তরল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ খাত সমৃদ্ধ হবে না। এগুলোর ব্যবসা এখানে সম্প্রসারণ করে যারা লাভবান হচ্ছে, তাদেরই প্রশ্নের মুখে ফেলতে হবে, খুঁজে বের করতে হবে। জ্বালানি অসমতা এবং বৈষম্যের শিকার জ্বালানি বাজারে জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে প্রতিযোগিতা তার সমতা নিশ্চিত করতে হবে।

আগামীর সময়: ২৫ বছরে এবারই একবারে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। মূল্যস্ফীতির এ বাজারে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এটি কতটা বড় আঘাত?

ড. এম শামসুল আলম: এই আঘাত তো আমার অন্তরে বেশি লাগে। যা শুধু আমাকে কষ্ট দেয় না, আমাকে পোড়ায়। আমি সেদিক থেকে বলব যে, আমার ভোগ ব্যয় কমে যাবে। আমার তো আয় বাড়ে না। বাড়লেও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যভাবে বাড়ে না। তেলের দাম, জ্বালানির দাম, বিদ্যুতের দাম। দাম বাড়লে তো জোয়ারের মতো বাড়ে। কিন্তু এ বাড়ার ক্ষেত্রে যদি ক্রয়ক্ষমতা আমার কমে যায় তাহলে আমি পণ্য বা সেবা ক্রয় করব না। তাহলে পণ্য বা সেবা যারা উৎপাদন করে তারা বাজারে টিকে থাকতে পারবে না। তাদের কাছ থেকে সরকার যে ট্যাক্স-ভ্যাট পায়, সেটি কমে যাবে। সরকারের যদি আয় কমে যায় তাহলে ব্যাংক থেকে লোন নেবে। লোন নিচ্ছে এখনো। লোন নিয়েই তো চালাচ্ছে। সেই লোন গ্রহণ আরও বাড়বে। ব্যাংকগুলো আর্থিক সংকটে পড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্য সংকটে পড়বে। সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়বে। বাজেট ঘাটতি বাড়লে সরকার টাকা ছাপিয়ে সেটা মোকাবিলা করার চেষ্টা করবে। সরকার এখন নতুন পে স্কেল দেবে এবং সেটা দিয়ে ব্যয় বাড়াবে। এতে হয়তো কয়েক লাখ লোকের হাতে টাকা যাবে কিন্তু ২০ কোটি মানুষের কী হবে? মূল্যস্ফীতি বাড়বে। কারখানায় উৎপাদন খরচ বাড়বে। অভিঘাত পুরো অর্থনীতিতে পড়বে।

আগামীর সময়: তীব্র আপত্তির মুখে ঘোষণার এক দিন পর বিইআরসি ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি দাম প্রত্যাহার করেছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে কি আপনি সাধারণ মানুষের আংশিক জয় বলবেন নাকি এটি আইওয়াশ?

ড. এম শামসুল আলম: আদেশ পরিবর্তন করা অলৌকিক কিছু নয়। এটা জেনারেল কোর্টেও হয়। কিন্তু বিষয়টা হলো— বিইআরসিই তো স্ল্যাবের এসব মূল্য নির্ধারণ করেছে। সরকার বলেছে, ১ টাকা ২০ পয়সা তারা বাড়িয়ে দিয়েছে। এগুলো তো তারাই করেছে। তারা যে কতখানি জনস্বার্থসম্মত, তাদের বুঝ-বিবেচনা এখান থেকেই সরকারকে বুঝতে হবে। সরকারের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হিসেবে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এরকম হয় তাহলে সরকার কতখানি বিকলাঙ্গ? এটাই আতঙ্কের বিষয় যে, সরকারের এ কাঠামোগত প্রশাসন দিয়ে জনস্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না, এটাই তার প্রমাণ।

আগামীর সময়: বিদ্যুৎ খাতের এ সংকটের জন্য খাতসংশ্লিষ্টরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসম চুক্তিকে দায়ী করছেন। বর্তমান সরকারের এ ‘বাধ্য হয়ে দাম বাড়ানো’র যুক্তি আপনি কতটুকু গ্রহণ করছেন?

ড. এম শামসুল আলম: আমি এখানে বাধ্যতা দেখি না। আগেই বলেছি, রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত এবং এ সরকার ভূমিধস বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে। এ ক্ষমতা ব্যবহারে সরকারের সীমাবদ্ধতা কাজ করছে। কারণ, এ প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষম নয়, যাদের দিয়ে সরকার তার সার্বভৌম ক্ষমতা বাস্তবায়ন করে। সুতরাং বাধ্যবাধকতার বিষয়টি আমি বড় করে দেখি না। আমি সীমাবদ্ধতা দেখি, অক্ষমতা দেখি, সক্ষমতার অভাবের প্রতিফলন দেখি। এক্ষেত্রে সক্ষম হয়ে ওঠাটাই হচ্ছে সরকারের জন্য জরুরি।

আগামীর সময়সাক্ষাৎকারপাইকারিগ্রাহকপর্যায়ভুর্তুকি
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    আসছে ককরোচ, কাঁপছে দিল্লি

    আসছে ককরোচ, কাঁপছে দিল্লি

    ০৬ জুন ২০২৬, ০০:৩৬

    জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে অন্তত ২ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

    জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে অন্তত ২ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

    ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২১

    সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ চারজন আটক

    সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ চারজন আটক

    ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৪৫

    কসবায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আরেক বন্ধু নিহত

    কসবায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আরেক বন্ধু নিহত

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯

    আল-মুসলিম গ্রুপে ১,৮৬৪ শ্রমিক ছাঁটাই, অসন্তোষের শঙ্কা

    আল-মুসলিম গ্রুপে ১,৮৬৪ শ্রমিক ছাঁটাই, অসন্তোষের শঙ্কা

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২৮

    ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ

    ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৪

    নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি, রংপুরে সংহতি সমাবেশ

    নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি, রংপুরে সংহতি সমাবেশ

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫

    তপুর জোড়া গোলে ইউরোপ জয় বাংলাদেশের

    তপুর জোড়া গোলে ইউরোপ জয় বাংলাদেশের

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫১

    ঈশ্বরদীতে লিচু সংরক্ষণাগার নির্মাণের আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী

    ঈশ্বরদীতে লিচু সংরক্ষণাগার নির্মাণের আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৩

    ছাত্রলীগের সভা-মিছিল: সাবেক মেয়র মনজুর আলমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ছাত্রলীগের সভা-মিছিল: সাবেক মেয়র মনজুর আলমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬

    অনুপ্রবেশ ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বাড়তি নিরাপত্তা

    অনুপ্রবেশ ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বাড়তি নিরাপত্তা

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯

    নতুন রানির অপেক্ষায় প্যারিস

    নতুন রানির অপেক্ষায় প্যারিস

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৩

    নেইমার : বেড়াতে যাচ্ছি না, আমার মনোযোগ খেলায়

    নেইমার : বেড়াতে যাচ্ছি না, আমার মনোযোগ খেলায়

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪

    রাস্তার পাশে খোরশেদের সোয়া লাখ তালগাছ

    রাস্তার পাশে খোরশেদের সোয়া লাখ তালগাছ

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫

    রইদে লুকানো প্রতীক বনাম মমতা ব্যানার্জির বিস্ফোরণ

    রইদে লুকানো প্রতীক বনাম মমতা ব্যানার্জির বিস্ফোরণ

    ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:১৩

    advertiseadvertise