পাঠকের লেখা
ইশতেহারের কথা রাখুন শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হবে। যার আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। এ দুটি খাত বিপন্ন হলে দেশের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ সম্ভব নয়। শিক্ষা এমন একটি বিষয়, যা অন্য সব খাতকে স্পর্শ করে এবং সব অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। ফলে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো না গেলে কোনো দেশের পক্ষেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট হয় ১৯৭২-৭৩ সালে। সেবার ৭৮৬ কোটি টাকার যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেখানে শিক্ষা ও পুনর্বাসন খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। সে সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর পর থেকে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ক্রমে কমছেই। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১৪.০৮ শতাংশ ও জিডিপির ২.৪৭ শতাংশ; ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১৩.৮০ শতাংশ ও জিডিপির ২.২০ শতাংশ; ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১১.৪১ শতাংশ ও জিডিপির ২.১০ শতাংশ; ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১১.৫৩ শতাংশ ও জিডিপির ২.০২ শতাংশ; ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১১.৬৯ শতাংশ ও জিডিপির ২.০৪ শতাংশ; ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১১.৯২ শতাংশ ও জিডিপির ২.০৫ শতাংশ; ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১২.১১ শতাংশ ও জিডিপির ১.৮৩ শতাংশ; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১১.৫৭ শতাংশ ও জিডিপির ১.৭৬ শতাংশ; ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১১.৬৬ শতাংশ ও জিডিপির ১.৬৯ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১১.১১ শতাংশ ও জিডিপির ১.৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা খাতে সর্বনিম্ন বরাদ্দ দেওয়া দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। ইউনেসকোর মানদণ্ড অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ হওয়া উচিত
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের গত তিন বছরের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হয়েছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির ৪.৫ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪.৫ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.১ শতাংশ। এ ছাড়া ভুটান ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬.৮ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটানই শিক্ষা খাতে জিডিপির অনুপাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা খাতে সর্বনিম্ন বরাদ্দ দেওয়া দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ হওয়া উচিত। অথচ গত ১০ বছরে বাংলাদেশ কখনোই জিডিপির ২.৫ শতাংশের সীমারেখাও অতিক্রম করতে পারেনি; বরং বরাদ্দ দিনে দিনে নিম্নগামী হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়া হয় নামমাত্র, আর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অন্যতম মাধ্যম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা তো আরও ভয়াবহ! ইউজিসির (UGC) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক গড় ব্যয় মাত্র ৭৯৫ টাকা ৫৫ পয়সা। এই হিসাব অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে মাসে খরচ হয় মাত্র ৬৬ টাকা, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে একপ্রকার প্রহসনই বটে।
ফলে এবারের বাজেটে প্রত্যাশার দিক একটু বেশি রাখা যায়; কেননা ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সেই নির্বাচনী ইশতেহার বা অঙ্গীকারনামার বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করাই যায়।
লেখক: শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ





