ট্রাম্পের সঙ্গে কূটনৈতিক খেলা, বারবার কেন জিতছেন শি
- বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে দৃশ্যটা যেন এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের

ওয়াশিংটনে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন কানাডাকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর মতো মন্তব্য করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই বেইজিংয়ে অন্য এক ছবি। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দাঁড়িয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীনা নেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে হাত মেলাচ্ছেন। যে নেতা এক বছর আগেও চীনকে সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক হুমকি বলেছিলেন, তিনিই এখন বলছেন— দুই দেশের অংশীদারত্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি হতে পারে।
এই দৃশ্য বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি বড় প্রবণতার অংশ।
২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জর্জিয়া, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা চীন সফর করেন। জানুয়ারিতে এই সফরের গতি আরও বেড়ে যায়— ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের নেতারা একের পর এক বেইজিং যান; এরপর ফেব্রুয়ারিতে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ও জার্মানির চ্যান্সেলরও যান। এপ্রিল মাসে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী চার বছরে চতুর্থবার চীন সফর করে এই প্রবণতাকে আরও দৃঢ় করেন।
তারা সবাই লালগালিচায় হাঁটেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলান এবং সম্পর্ক জোরদার করতে বিভিন্ন চুক্তি সই করেন। চীনা রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এটিকে ‘সফরের ঢেউ’ বলে আখ্যা দিয়েছে, যা দেখায় চীন উঠে আসছে আর যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে।
ফরেন অ্যাফেয়ার্সের এক নিবন্ধে বলা হয়, এখন এসব দেশের নেতারা কিছুটা উদ্বিগ্ন, কারণ আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প নিজেও চীন সফরে যাচ্ছেন। কানাডাসহ অনেক মার্কিন মিত্র দেশের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর প্রধান কারণ ট্রাম্প নিজেই। যুক্তরাষ্ট্র যখন অনেকটা চাপ সৃষ্টি করা শক্তিধর দেশের মতো আচরণ করছে, তখন এসব দেশের নেতারা মনে করছেন তাদের বিকল্প পথ রাখতে হবে।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করা মানে ট্রাম্পকে একটি বার্তা দেওয়া— তাদের অন্য অপশন আছে, তারা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয়।
কিন্তু সমস্যা হলো, ট্রাম্প ও শির মধ্যে কোনো চুক্তি হলে তা অন্য দেশগুলোর জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। কারণ তারা ট্রাম্পের ওপর ভরসা করতে পারছে না। তাই তারা আশা করছে, চীন অন্তত তাদের কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা দেবে।
এ অবস্থায় একটি বড় সমস্যা স্পষ্ট— এই দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করছে না। তাদের উচিত চীনের ব্যাপারে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়া, কিছু নির্দিষ্ট সীমা (রেডলাইন) ঠিক করা এবং চীনের চাপের বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়ানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে আস্থা ভেঙে গেলেও পুরোপুরি সমন্বয় অসম্ভব নয়। ট্রাম্প চাইলে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে পারেন— অস্থায়ী লাভের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে বরং মিত্রদের সঙ্গে আগে থেকেই সমন্বয় করে শক্ত অবস্থান নিতে পারেন।
প্রতিটি দেশ আলাদাভাবে চীন সফর করলে তা তাদের স্বার্থে ঠিক মনে হতে পারে। কিন্তু সব মিলিয়ে এটি চীনের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক জয়। কারণ এই সফরগুলো শি জিনপিংকে একজন বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরে। ধীরে ধীরে এটি এমন একটি ধারণা তৈরি করে যে চীন শক্তিশালী হচ্ছে আর অন্যরা তার দিকে ঝুঁকছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে এমন অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করছে, যাতে সে নিজে শক্তিশালী হয় আর অন্য দেশগুলো তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। প্রয়োজন হলে তারা বাজারে প্রবেশাধিকার বা কাঁচামালের সরবরাহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
আজকের বাস্তবতা হলো— যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় অনেক দেশ চীনের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু এতে দীর্ঘ মেয়াদে তারা চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
চীন সফরে গেলে সাধারণত দেশগুলোর নেতারা চীনের নিয়ম মেনেই চলেন। তারা প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন না; বরং ‘অংশীদারত্ব’ বা ‘সম্পর্ক পুনর্গঠন’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন। মানবাধিকার বা গণতন্ত্রের কথা প্রায় বলাই হয় না। চীন খুব কৌশলে প্রতিটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করে— যতটা ছাড় দিলে তারা বেশি সুবিধা পাবে, ততটাই দেয়। যেমন- কানাডা চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, বিনিময়ে চীন তাদের কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছে। এতে বোঝা গেছে, চাপ দিলে মিত্র দেশগুলোও অবস্থান বদলাতে পারে।
ইউরোপের দেশগুলোও নিজেদের পণ্য (যেমন— দুধ, গরুর মাংস, ব্র্যান্ডি) রপ্তানির সুবিধার জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি করছে। কিন্তু বাস্তবে এই সম্পর্ক অসমই থেকে যাচ্ছে— চীন বেশি রপ্তানি করছে, কম আমদানি করছে। ফলে এসব দেশ চীনের কাছে কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল বিক্রি করছে, আর চীন তাদের উন্নত প্রযুক্তি ও শিল্পপণ্য বিক্রি করছে। এতে তাদের নিজস্ব শিল্প খাত দুর্বল হয়ে পড়ছে। চীন ইতোমধ্যে বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৪৫ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো শিল্পোন্নত দেশগুলো পিছিয়ে পড়ছে। অনেক দেশ এখন মূলত চীনের জন্য কাঁচামাল সরবরাহকারী— যেমন খামার, খনি বা জ্বালানি সরবরাহকারী এবং একই সঙ্গে চীনের তৈরি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
যে জোটটা কখনো গড়ে উঠল না
বিদেশি নেতারা বুঝতে পারছেন না, এমন নয়। তারা জানেন যে তাদের কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরের ঘটনা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। বেইজিং সফরের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত টেকসই নয়। তারা নিজেদের ক্রেতাদেরই ধ্বংস করছে, বিশেষ করে আমাদের কাছ থেকে আমদানি প্রায় বন্ধ করে দিয়ে।’
তিনি সতর্ক করে দেন, চীন যদি এই ভারসাম্যহীনতা ঠিক না করে, তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের শিল্প রক্ষার জন্য বাধা আরোপ করতে বাধ্য হবে, যা তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত উৎপাদন, কৃত্রিমভাবে দুর্বল রাখা ইউয়ান, কম ভোক্তা ব্যয় এবং বাজারে প্রবেশের বাধার কারণে।
ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসও একইভাবে চীনা কর্মকর্তাদের এই বাণিজ্য ভারসাম্য ঠিক করার আহ্বান জানান। চীনের শিল্প যখন উচ্চমানের প্রযুক্তিতে এগোচ্ছে, তখন জার্মানির গাড়ি রপ্তানি ২০২২ সালের পর থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে এবং তাদের উৎপাদন খাতে হাজার হাজার চাকরি হারিয়েছে। ২০২৫ সালেই জার্মান মেশিন টুলসের জন্য চীনের ক্রয়াদেশ এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। কিন্তু চীনের এই আক্রমণাত্মক অর্থনৈতিক নীতি ঠেকাতে হলে প্রতিটি সফরকারী নেতাকে একসঙ্গে শক্ত বার্তা দিতে হতো এবং সেই বার্তার পেছনে শক্তিশালী একটি জোট দরকার ছিল।
বাস্তবে হয়েছে উল্টোটা। প্রতিটি দেশ নিজের স্বল্পমেয়াদি লাভের কথা ভেবে কাজ করেছে, ফলে সম্মিলিত শক্তি দুর্বল হয়েছে। মার্চে চীনের ১৫তম পাঁচ বছরমেয়াদি পরিকল্পনায় স্পষ্ট হয়ে যায়— তারা বিদেশিদের এসব বিচ্ছিন্ন অনুরোধকে গুরুত্ব না দিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদনে আধিপত্য বিস্তার চালিয়ে যাবে।
তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক লাভের জন্য নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো উপেক্ষা করায় এসব সরকার নিজেদের নাগরিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, যেমন— বিদেশি হস্তক্ষেপ, ইচ্ছামতো আটক বা আন্তর্জাতিক দমন-পীড়ন। যুক্তরাজ্যের উদাহরণটা পরিষ্কার। জানুয়ারিতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মানবিক কারণে জিমি লাই নামের ৭৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ও হংকংয়ের সংবাদপত্র প্রকাশকের মুক্তি চান। লাইকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
কিন্তু একই বৈঠকে স্টারমার আবার বলেছেন, তিনি চীন-যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘আরও উন্নত সম্পর্ক’ চান। কয়েকদিনের মধ্যেই হংকংয়ের আদালত লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ব্রিটিশ সরকার এই রায়কে অন্যায় বললেও কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি। পরে নিজের সফরের বিবরণে স্টারমার এসব সংবেদনশীল বিষয় এড়িয়ে গিয়ে সাধারণ বিষয়— যেমন বৈঠকের সময়কাল বা ‘ইতিহাসের যৌথ অনুভূতি’ নিয়ে কথা বলেন।
ছাড় দেওয়ার আগে অঙ্গীকার দরকার
অনেক দেশ বেইজিং গিয়ে ছোট ছোট চুক্তি করে আসছে দেখে ট্রাম্পও হয়তো তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন বড় ঘোষণা দিয়ে, চীনের সঙ্গে আপস করে আরও বড় চুক্তি করতে চাইতে পারেন। এরই মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির জন্য তার প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে— উন্নত কম্পিউটার চিপ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে, তাইওয়ানের জন্য অস্ত্র বিক্রি আটকে দিয়েছে এবং চীনের সঙ্গে যুক্ত সাইবার হামলার জন্য নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখেছে।
ট্রাম্প চাইছেন চীন যেন যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বোয়িং বিমান কেনে, ফেন্টানিল তৈরির উপাদান রপ্তানি সীমিত করে এবং বিরল খনিজ সরবরাহ নিশ্চিত করে। এর বিনিময়ে চীন চাইতে পারে তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমানো, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, চীনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের বাধা কমানো।
কিন্তু এই পদ্ধতিতে বড় ঝুঁকি আছে। যদি মিত্র দেশগুলো দেখে ট্রাম্প যৌথ স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শুধু শিরোনাম হওয়ার মতো চুক্তি করছেন, তাহলে তারা আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকবে এবং পশ্চিমা জোট আরও দুর্বল হবে। আর যদি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ— যেমন নিরাপত্তা বা প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ করা হয়, তাহলে শি জিনপিং বুঝবেন যে যুক্তরাষ্ট্রও এখন চীনের সঙ্গে আপস করতে প্রস্তুত। এতে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়বে।
ভালো বিকল্প পথ
ট্রাম্প চাইলে ভিন্ন পথ নিতে পারেন। চীন সফরের উদ্দেশ্য নতুনভাবে নির্ধারণ করতে পারেন— শুধু সাময়িক চুক্তি নয়; বরং তথ্য সংগ্রহ, নিজের সীমা (রেডলাইন) রক্ষা করা এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়া। চীনা কূটনীতিতে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— তারা উষ্ণ আচরণকে সমর্থন হিসেবে দেখে আর নীরবতাকে আত্মসমর্পণ হিসেবে ধরে নেয়। তাই ট্রাম্প ও অন্য নেতাদের উচিত চীনের পছন্দসই প্রতীকী বা অতিরিক্ত নমনীয় আচরণ এড়িয়ে চলা। বরং তাদের উচিত স্পষ্টভাবে নিজেদের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরা, বন্দিদের মুক্তির দাবি করা এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেবে, তা জানানো।
কার্নি ও অন্য নেতারা হয়তো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণে দ্বিধায় থাকবেন; কিন্তু অন্তত কিছু ক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। যেমন— চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় করা এবং অতিরিক্ত উৎপাদনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া কিছু বিষয় ঠিক করা দরকার, যেগুলো কোনো দেশই ছাড় দেবে না— গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ডেটা নিরাপত্তা, শিল্প সক্ষমতা, তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার প্রতি চীনের সহায়তার সীমা।
এই ধারাবাহিক সফরগুলো দেখিয়েছে— আলাদা আলাদা আপস করে হয়তো অস্থায়ী স্থিতিশীলতা পাওয়া যায়; কিন্তু এতে সম্মিলিত শক্তি কমে যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর চেয়ে ভালো কৌশল হলো— চীনের সঙ্গে আপসকে সাময়িক সময় কেনার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা এবং সেই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের চাপ মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও শক্ত করা।
কিন্তু ভূরাজনীতির এই কাটাছেঁড়ায় আসলে জেতে কে? এ প্রশ্নের উত্তর মেলা কঠিন। শেষ পর্যন্ত মঞ্চে আলো কমে আসে— হাত মেলানো নেতাদের হাসি মিলিয়ে যায় নীরব ছায়ায়। কে জিতল, তা বোঝা যায় না; শুধু বোঝা যায়, দামের হিসাব এখনো বাকি। অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা বিশ্ব ধীরে ধীরে টানটান হয়ে উঠছে— এক ভুল পদক্ষেপেই ছিঁড়ে যেতে পারে সবকিছু।
আর সেই মুহূর্তেই প্রকাশ পাবে কূটনীতির খেলায় আসল বিজয়ী কে আর কে শুধু সময় কিনছিল।
লেখক : উপবার্তা সম্পাদক, আগামীর সময়






