দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘ইমপোর্ট এক্সপো’তে বাংলাদেশি পণ্য ও প্রযুক্তির বড় প্রদর্শনী

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ঐতিহ্যবাহী কোয়েক্স কনভেনশন সেন্টারে সফলভাবে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘কোরিয়া ইমপোর্ট এক্সপো ২০২৬’। গত ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই) এবং সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের শক্তিশালী উপস্থিতি কোরিয়ান ও বিদেশি ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।
মেলায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ৩২টি গতিশীল প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। এর মধ্যে ছিল তৈরি পোশাক ও গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, প্রিমিয়াম চামড়াজাত পণ্য ও জুতো, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প, প্রক্রিয়াজাত কৃষিজাত খাদ্য এবং আইটি ও এআই-চালিত সফটওয়্যার সলিউশন। বিশেষ করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) জোরালো উপস্থিতি মেলায় লক্ষ্য করা গেছে।
গত ২৩ জুন মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কোরিয়া ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (কোইমা) চেয়ারম্যান ইয়ংমি ইউন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল। উদ্বোধনের পর আমন্ত্রিত ভিআইপি অতিথিরা বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন।
কেবিসিসিআইয়ের সভাপতি শাহাব উদ্দিন খানের উপস্থিতিতে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ’ ব্যানারে সাজানো নান্দনিক এই প্যাভিলিয়নটি মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয় এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে এখানে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়।
এক্সপোতে কেবিসিসিআই সভাপতির নেতৃত্বে ৪১ সদস্যের একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। মেলা চলাকালীন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কোরিয়ান ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ১৫টির বেশি সফল ‘বিটুবি’ (বিজনেস-টু-বিজনেস) সাইডলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মেলার পাশাপাশি কেবিসিসিআই প্রতিনিধি দল কোইমা চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যেখানে উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেবিসিসিআই এবং কোইমার মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এবারের মেলায় এই ফলপ্রসূ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
মেলা শেষে গত ২৬ জুন সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি দলের সম্মানে এক বিশেষ সংবর্ধনা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে কেবিসিসিআই এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে কোইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত লি ইউন ইয়ং, সাবেক রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক এবং ইনচনে বাংলাদেশ দূতাবাসের অনারারি কনসাল জেনারেল ডেভিড কিমসহ কোরিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৬ সালের এই এক্সপোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।





