চেষ্টায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়ার, বুলেট কেড়ে নিল স্বপ্ন

ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ, ইনসেটে নিহত রাজু। ছবি: সংগৃহীত
আকাশপথে মেক্সিকো, তারপর সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এসেছিলেন নোয়াখালীর যুবক মো. রাজু। স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসী হবেন, গড়বেন একটি উন্নত জীবন। তবে দুর্বৃত্তের গুলিতে মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে সেই স্বপ্ন।
গত শনিবার গভীর রাতে দেশটির নিউ ইয়র্কের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করার সময় দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারান রাজু। একই ঘটনায় রাসেল (৩৯) নামে আরেক বাংলাদেশি নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জানা গেছে, তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন রাজু। কাজ করতেন নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টে। অন্য দিনের মতো রাতে কাজ করছিলেন তিনি। মধ্যরাতের দিকে এক বন্দুকধারী সেখানে গুলি চালায়। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন রাজু। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পায়ে গুলিবিদ্ধ রাসেল চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ঘটনাটিকে রেস্টুরেন্টের ভেতরে সংঘটিত একটি হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। কী কারণে গুলি চালানো হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলাকারী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি এবং এখনো কাউকে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়নি। রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত দোকানের ভেতরের আলামত ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।
রাজু ও রাসেল দুজনের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। রাজু জেলার সোনাইমুড়ী থানার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন রাজু। এ জন্য অভিবাসন আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগও রক্ষা করছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।
এদিকে গোলাগুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জামাল ব্রাউন নামে এক ব্যক্তি বলেছেন, এখানকার সেরা চিকেনের দোকান এটি। এমন ঘটনা ঘটছে দেখে আমি সত্যিই হতবাক। আমি শুধু চাই— আমার কমিউনিটি যেন এই সহিংসতা রুখে দিতে পারে। বিষয়টি সত্যিই খুব দুঃখজনক।
মেলভিন আর্বি বলছিলেন, এ এলাকায় ডাকাতির ঘটনাও খুব একটা শোনা যায় না, গোলাগুলির ঘটনা তো দূরের কথা। তাই আমি নিশ্চিতভাবেই হতবাক হয়েছি। আশাকরি পুলিশ অপরাধীদের ধরবে; এলাকাটি এখন নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং অপরাধী ধরা পড়বে বলে আশা করছি।
এদিকে নিউ ইয়র্কে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানের উদ্যোগ নিয়েছে। সোমবার জানাজা শেষে নোয়াখালী সোসাইটির খরচে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।






