বুসানে বৃষ্টিভেজা ঈদে চার জামায়াত, স্থায়ী মসজিদের সংকট

ছবি: আগামীর সময়
দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের নামগু দেংদং এলাকায় অবস্থিত আল আকসা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ চারটি পৃথক জামায়াতে সম্পন্ন হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও স্থান সংকটের কারণে একসঙ্গে বড় জামায়াত আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট, ৭টা ১৫ মিনিট, ৮টা এবং ৮টা ৩০ মিনিটে পৃথকভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
মসজিদ কমিটির প্রতিনিধি শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, বুসান অঞ্চলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও প্রবাসী মিলিয়ে দুই হাজারেরও বেশি মুসলিম বসবাস করেন। কিয়াংসাং, তংমিয়ং, দংইউ, পুকিয়ং ও পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে এখানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে খোলা জায়গায় নামাজ আদায়ের সুযোগ না থাকায় ভেতরের সীমিত স্থানে চার দফায় জামায়াত আয়োজন করতে হয়। অনেক মুসল্লি সারারাত পার্ট-টাইম কাজ শেষে স্বল্প বিশ্রাম নিয়ে কিংবা ব্যস্ত ল্যাব শিডিউল সামলিয়ে নামাজে অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই ভাষা কোর্স, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী। দং ইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রইস জানালেন, সকালে ল্যাবের শিডিউল খালি থাকায় তিনি সহজে নামাজে অংশ নিতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা ও কুশল বিনিময় করতে পেরে ভালো লেগেছে।
কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় জানান, রাতের ল্যাব শেষ করে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ায় প্রথম জামায়াত মিস করলেও পরের জামায়াতে নামাজ আদায় করতে পেরেছেন।
নামাজ শেষে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে বুসানের মুসলিম সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের স্থান সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
শাহাদাত হোসাইন উল্লেখ করেন, প্রতিবছরই মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু আল আকসা মসজিদের বর্তমান স্থান প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শুধু ঈদের নামাজ নয়, নিয়মিত জুমার নামাজেও স্থান সংকুলান করতে হিমশিম খেতে হয়।
তিনি আরও জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি, আর অধিকাংশ মুসল্লি শিক্ষার্থী হওয়ায় বড় পরিসরে স্থায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় বুসানের নামগু এলাকায় একটি স্থায়ী ও বড় মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন ইসলামিক সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি।
বৃষ্টিভেজা এই ঈদ প্রবাসী মুসলমানদের জন্য ভিন্ন এক আবেগের মুহূর্ত হয়ে ওঠে, যেখানে ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মাঝেও ভ্রাতৃত্বের উষ্ণতা এবং ঈদের আনন্দ একসঙ্গে মিলিত হয়।






