ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড পল্লীবিদ্যুতের লাইন, জেলায় জেলায় বিভ্রাট

ছবি: আগামীর সময়
দেশজুড়ে কালবৈশাখী ও ভারী বৃষ্টির তাণ্ডবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিতরণ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়া, খুঁটি হেলে যাওয়া, লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন উপকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের অর্ধেকের বেশি জেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও দিনভর, আবার অনেক এলাকায় রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা।
আরইবি সূত্র বলছে, মঙ্গলবার দিনভর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির কারণে পল্লী বিদ্যুতের বিতরণ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। বিশেষ করে মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল বেশি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোলা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক স্থানে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। একই সময়ে শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী পিবিএস-১ ও ২, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রাম পিবিএস-৩ এলাকায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
কুমিল্লার চারটি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। ঝড়ে একাধিক লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অনেক গ্রাহক দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। একই চিত্র দেখা গেছে শরীয়তপুর ও মাদারীপুরেও।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুষ্টিয়া পিবিএস-১ ও ২, যশোর পিবিএস-১ ও ২, মাগুরা, খুলনা, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও বাগেরহাট এলাকায় ঝড়ের কারণে বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বহু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে লাইন মেরামতের কাজ শুরু করতে হয়।
বরিশাল অঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে নাজুক। ভোলা ছাড়া বরিশাল পিবিএস-১ ও ২, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির প্রায় পুরো এলাকাই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ঝুঁকিতে পড়ে।
আরইবি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে সৃষ্ট লোডশেডিং নয়। ঝড়-বৃষ্টির কারণে স্থানীয় বিতরণ লাইনে যেসব ত্রুটি তৈরি হয়েছে, সেগুলোর কারণেই সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলী ও কারিগরি দল রাতভর কাজ করেছে।
এদিকে আরইবির কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের মধ্যেও জাতীয়ভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। ২৬ মে রাত ১২টায় আরইবি এলাকায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৭ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৭ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। ওই সময় শুধু খুলনা অঞ্চলে ৪৪ মেগাওয়াটের সামান্য ঘাটতি ছিল।
পরদিন দুপুরে বৃষ্টি ও তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। দুপুর ১২টায় চাহিদা নেমে আসে ৩ হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াটে এবং পুরো চাহিদাই পূরণ করা সম্ভব হয়। পরে বিকেল ৩টায় চাহিদা বেড়ে ৪ হাজার ৪৫৯ মেগাওয়াটে দাঁড়ালেও পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ায় এখন থেকেই বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রগুলোর সুরক্ষা জোরদার করা না গেলে সামনের দিনগুলোতে এমন বিভ্রাট আরও বাড়তে পারে।






