ডিবি হারুনসহ ২৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

সংগৃহীত ছবি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাটারা থানাধীন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান জামালপুরের মো. আমজাদ। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। এ ছাড়া অব্যাহতির ২৫ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্তে শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের বিতর্কিত চারটি ভিডিও বক্তব্য পেয়ে মামলায় তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ভাটারা থানার সাবেক এসআই প্রীয়তোষ চন্দ্র দত্ত, উপসচিব মোহাম্মদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী, বেস্টওয়ে গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ ২৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে এটিইউ।
গত ৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সামসুদ্দীন আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে বলা হয়, সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনুর রশিদসহ ২৫ জনের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভাটারা থানার আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. ইসহাক মিয়ার নেতৃত্বে অস্ত্রধারী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর ইটপাটকেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। ছাত্র-জনতা তাদের ধাওয়া দিলে আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করেন। এ মামলা সংক্রান্তে জব্দ করা চারটি বিতর্কিত ভিডিও চিত্র সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব থেকে পরীক্ষা করা হয়। মতামত পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসব ভিডিওতে শেখ হাসিনা, আরাফাত, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান কামালের উসকানিমূলক বিতর্কিত বক্তব্য রয়েছে। এগুলো সম্পাদিত নয় এবং কণ্ঠস্বর সঠিক আছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী খালেদ মাহমুদ রাহুল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলার বাদী খালেদ মাহমুদ রাহুল বলেছেন, ‘আমজাদ আমার কিছু হন না। একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। বিচার পেতে সহযোদ্ধা হিসেবে মামলা করেছি। শুনেছি আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। তদন্তে কার নাম আছে বা কাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সেটা জানা নেই। অভিযোগপত্র পেলে তারপর মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দীনের ভাষ্য, ‘যাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি। ৬৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে; তারা অভিযোগ প্রমাণ করবেন।’




