কারাগারে বেশি মৃত্যু বিচারাধীন বন্দিদের
- চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে মৃত্যু ৭৯ জনের
- ৫ বছরে ১৪১৩ বন্দির মৃত্যু মাসে মারা যান ২৪ জন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কারাগারের চার দেয়ালে অপরাধের শাস্তি পেতে আসেন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। কিন্তু সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে তাদের, যাদের অপরাধ এখনো আদালতে প্রমাণই হয়নি। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে কারা হেফাজতে মারা যাওয়া বন্দিদের সিংহভাগই ছিলেন বিচারাধীন। সব মিলিয়ে কারাগার বন্দিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বদলে পরিণত হয়েছে আতঙ্কের এক ঠিকানায়। সামান্য সর্দি-জ্বর কিংবা বুকব্যথা— সবকিছুর পরিণতি যেন এক। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই চিরতরে থেমে যাচ্ছে বহু প্রাণ।
বন্দিমৃত্যু নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর সব তথ্য তাদের কাছে থাকে না। হাসপাতালে নেওয়ার পর যেসব বন্দির মৃত্যু হয় বা গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ পায়— শুধু সেসব তথ্য সংগ্রহ থেকে তালিকা তৈরি করেন তারা। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৪৯৯ জনের। আর চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) মারা গেছেন ৭৯ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় ঢাকা বিভাগে, সবচেয়ে কম মৃত্যু সিলেট বিভাগে।
আসকের পরিসংখ্যান বলছে, কারা হেফাজতে বেশি মৃত্যু হয় বিচারাধীন বন্দিদের। আর কম মৃত্যু সাজাপ্রাপ্তদের। এ বছর বন্দিমৃত্যুর যে ৭৯টি ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে বিচারাধীন ৪৭, সাজাপ্রাপ্ত ৩২; ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে ৪৪ জন। একইভাবে ২০২৫ সালে ১০৭ বন্দিমৃত্যুর মধ্যে বিচারাধীন ৬৯, সাজাপ্রাপ্ত ৩৮, ঢাকা বিভাগে মারা যান ৬৬ জন বন্দি। ২০২৪ সালে ৬৫ জনের মৃত্যুর মধ্যে বিচারাধীন ৪২, সাজাপ্রাপ্ত ২৩ ও ঢাকা বিভাগে ৩০ জন। ২০২৩ সালে ১০৬ বন্দিমৃত্যুর মধ্যে বিচারাধীন ৬৪, সাজাপ্রাপ্ত ৪২ ও ঢাকা বিভাগে ৭১ জন। ২০২২ সালে ৬৫ জনের মধ্যে বিচারাধীন ৩৭, সাজাপ্রাপ্ত ২৪ ও ঢাকা বিভাগে ৩৬ জন। ২০২১ সালে ৮১ জনের মধ্যে বিচারাধীন ৫২, সাজাপ্রাপ্ত ২৯ ও ঢাকা বিভাগে ৪১ জন। ২০২০ সালে ৭৫ বন্দিমৃত্যুর মধ্যে বিচারাধীন ৪৫, সাজাপ্রাপ্ত ৩০ ও ঢাকায় মারা যান ৩৯ জন। এই মানবাধিকার সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ বলছে, কারা হেফাজতে বেশি মৃত্যু হয় বিচারাধীন বন্দিদের। কম মৃত্যু সাজাপ্রাপ্তদের। সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা ও হাসপাতালের দূরত্বের কারণে ঝুঁকিতে পড়েন বন্দিরা। বিশেষ করে যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন হৃদরোগে আক্রান্ত বন্দিরা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাজাপ্রাপ্তরা বন্দিজীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন; কিন্তু বিচারাধীনরা মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন। প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার দুশ্চিন্তা ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা তাদের আরও কোণঠাসা করে ফেলে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা তুচ্ছ ঘটনায় আটক নতুন বন্দিরাই মূলত বেশি মানসিক ট্রমার শিকার হন। তার সঙ্গে যোগ হয় সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার অবহেলা। সব মিলিয়ে বিচারাধীন বন্দিরা তিলে তিলে শেষ হয়ে এগিয়ে যান অকালমৃত্যুর দিকে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কারা হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। গৎবাঁধা ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বা ‘হার্ট অ্যাটাক’ বলে দায় সারার সুযোগ নেই।
পরশ তালুকদার (৩৫)। বন্দি ছিলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। যদিও বাঁচানো যায়নি তাকে, ঢামেকে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন তাকে। ঢাকার পল্টন মডেল থানায় সরকারি কাজে বাধা, বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গায় অংশগ্রহণের অভিযোগে হওয়া তিন মামলায় বন্দি ছিলেন পরশ। পরিবারের দাবি, কারাগারে নির্যাতন করায় মৃত্যু হয় তার।
যদিও হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষী তখন বলেছিলেন, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে মৃত্যু হয় বন্দি পরশের।
একই দিন কিশোরগঞ্জ কারাগারে মৃত্যু হয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বন্দি থাকা খায়রুল আমিন রুহুল সরকারের (৫০)। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই নেতার হঠাৎ কারাগারে থাকা অবস্থায় বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন তাকে। খায়রুল ছিলেন জেলার কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্বজনদের দাবি, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হলেও প্রায় চার ঘণ্টা পর ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরও তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তিন দিন ধরে বুকে ব্যথার কথা জানালেও কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। তবে কিশোরগঞ্জ কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় খায়রুলকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এমন এক-দুজন নয়— বলতে গেলে নিত্যদিনই কারা হেফাজতে ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা। গত তিন মাসে দেশের কারাগারগুলোয় অন্তত ৩৭ বন্দিমৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে। তাদের মধ্যে বিচারাধীন ২৩ আর সাজাপ্রাপ্ত ছিল ১৪ জন। মৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী পাঁচ এবং সাধারণ বন্দি ৩২ জন।
মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে গত জুনে অসুস্থ অবস্থায় কারাভোগ করেন রাশেদ মজুমদার (ছদ্মনাম)। তার ভাষ্য, অসুস্থ হয়ে বন্দি হিসেবে থাকলেও চিকিৎসাসেবা পেতেন না। যারা গুরুতর অসুস্থ, শুধু তাদের ক্ষেত্রেই দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। এ ছাড়া টাকা না দিলে কোনো সেবাই মেলে না বন্দিদের। সাধারণত জ্বর-ঠান্ডার ক্ষেত্রে নাপাজাতীয় ওষুধ পাওয়া যায়।
বিচারাধীন বন্দিদের বেশি মৃত্যুর কারণ দুশ্চিন্তা ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া বলে জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তার মতে, যারা পুরনো বন্দি বা বারবার কারাভোগ করেছেন কিংবা সাজাপ্রাপ্ত— তারা বন্দিজীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। তবে যে বন্দিরা নতুন বা গুরুতর কোনো অপরাধ না করেই কারাভোগ করছেন, তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসামি হওয়া বন্দিরাই বেশি মারা যাচ্ছেন।
কারা অধিদপ্তরের তথ্যে আরও বেশি বন্দিমৃত্যুর পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১ হাজার ৪১৩ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নারী ৪৯ এবং পুরুষ ১ হাজার ৩৬৪ জন। গড় হিসাবে বছরে মৃত্যু হয়েছে ২৮৩ বন্দির। কারা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাসে ২৪ বন্দি কারা হেফাজতে মারা যাচ্ছেন। এর মধ্যে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা গেছেন ৪৯৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৫ দশমিক ১০ শতাংশ।
কারা অধিদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাসান জুয়েল আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা ১ লাখের বেশি। প্রায়ই কোনো না কোনো কারাগারে অসুস্থ হয়ে বন্দি মারা যান। অধিকাংশই মারা যান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। এ ছাড়া জ্বর-ঠান্ডা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা অসুস্থতার কারণেও মৃত্যু হয়। কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানেও মৃত্যু হয়।’
এক কারারক্ষীর ভাষ্য, রিমান্ড ফেরত আসামিদের বেশিরভাগই অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে আসেন। এরপর কিছুদিনের মধ্যে তাদের কারও কারও মৃত্যু হয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, কারাগারের ভেতরে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের সুযোগ নেই।
বন্দিমৃত্যুর কয়েকটি কারণ তুলে ধরলেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন। বললেন, ‘বিচারে দীর্ঘসূত্রতায় মানসিক চাপ, আন্তঃসামাজিক মর্যাদাগত চাপ ও ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বন্দি, রাতের বেলা হার্ট অ্যাটকসহ অন্যান্য গুরুতর অসুখে তাৎক্ষণিক ও যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় কারাগারে বন্দিমৃত্যুর কারণ। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পর থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের যে পদ্ধতি অর্থাৎ, মারধর বা নির্যাতনের কারণে তাদের মৃত্যু হয়।’
তার মতে, বন্দিমৃত্যু নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ সবসময় গৎবাঁধা কথা বলে। তারা ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ অথবা ‘হার্ট অ্যাটাক’-এর বয়ান দিয়ে থাকেন। কারা হেফাজতে মারা যাক আর পুলিশ হেফাজতে মারা যাক— এসব মৃত্যুর সঠিক তদন্ত বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে।
কারাগারে একজন সাধারণ বন্দি অসুস্থ হলে প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি তেমন আমলে নেওয়া হয় না জানিয়ে নূর খান লিটন বলছিলেন, ‘যখন চূড়ান্তভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। এ ছাড়া প্রকৃত অসুস্থ রোগীরা হাসপাতালে জায়গা পান না। এখানে যার টাকা আছে, তারা সহজেই চিকিৎসাসেবা পান।’
কারা হেফাজতে মৃত্যু: কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কারা হেফাজতে মৃত্যু হয় ১৮৭ জনের। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩৬ জন। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৫১ জন। আগের বছর কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩১৮ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮৯ জন। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১২৯ জন। ২০২৩ সালে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩৭৫ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ২৩২ জন। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১৪৩ জন। ২০২২ সালে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ২২৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩৯ জন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ৮৪ জন। ২০২১ সালে মারা গেছেন ৩০০ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ২০৫ জন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ৯৫ জন। এ ছাড়াও গত ৫ বছরে কারাগারে আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন; এর মধ্যে পুরুষ ৬ ও নারী ১ জন। আর কারা হাসপাতালে মারা গেছেন তিনজন।
কারাগারে চিকিৎসার ঘাটতি: দেশের কারাগারগুলোয় চিকিৎসাসেবার সংকট, অবহেলা এবং জরুরি চিকিৎসার মারাত্মক ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জেলার মাসুদ হাসান বললেন, ‘কারাগারে চিকিৎসাসেবা নিয়ে কিছু ঘাটতি রয়েছে, এটা সত্যি। কিন্তু কোনো বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কারা অধিদপ্তরে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৫১টি। অথচ বর্তমানে কর্মরত মাত্র দুজন। তাদের একজন মানিকগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে, অন্যজন রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে ৮৭ জন চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে এসে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা করে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। ল্যাব টেকনিশিয়ানের অনুমোদিত ১৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র পাঁচজন। ডিপ্লোমা নার্সের ১০১ অনুমোদিত পদের বিপরীতে রয়েছেন ৩১ জন। এ ছাড়া দেশে ৭৫টি কারাগারের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২৩টিতে। তাই অসুস্থ বন্দিদের অনেক ক্ষেত্রেই বিকল্প ব্যবস্থায় হাসপাতালে নিতে হয়।
কারাগারগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, জনবল সংকট এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকার কথা স্বীকার করলেন কারা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) লে. কর্নেল মোহাম্মদ আখতার হাসিব দেওয়ান। তিনি বললেন, ‘নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। চিকিৎসক ও জনবল ঘাটতি পূরণ হলে বন্দিদের চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তন আসতে পারে। সেক্ষেত্রে অসুস্থতাজনিত কারণে কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমে যাবে।’



