প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
‘মব সহিংসতার’ ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান । ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘মব সহিংসতার’ ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। আজ বুধবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
‘কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। চোর বা ডাকাত হাতেনাতে ধরা পড়লেও তাকে পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা, মারধরও করা যাবে না। এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের,’ বলছিলেন তিনি।
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসনিক কিছু ব্যর্থতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ‘ইতোমধ্যে একটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। চিহ্নিত করা হয়েছে আসামিদের। হঠাৎ করে তৈরি হয়নি মব সহিংসতার প্রবণতা,’ যোগ করলেন তিনি।
তবে এ ধরনের ঘটনার জন্য অন্তবর্তী সরকারকে দায়ী করেছেন এই উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ ধরনের কিছু ঘটনায় প্রশ্রয় দেওয়ার কারণেই জনমনে তৈরি হয়েছে ধারণা। ফলে জনগণ চাইলে নিজেরাই শাস্তি দিতে পারে— এমন মানসিকতা গড়ে উঠেছে সমাজে। একে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডা. জাহেদ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় এক নারী কর্মীর গ্রেপ্তারের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। ‘সংশ্লিষ্ট পোস্টে কিছু বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর তথ্য ছিল। তবে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা ও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। অনেক সময় মানুষ মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয় না জেনে। তাই জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে হেইট স্পিচ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও কাজ করবে সরকার।’
এ সময় সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। ‘একটি ছবি বা বক্তব্য সহজেই বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব সত্য বলেই ধরে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ ধরনের অপপ্রচার রোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
ভুয়া তথ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে শিশুদের পাঠ্যক্রমে সংশ্লিষ্ট পাঠ যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানালেন ডা. জাহেদ।
পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চালানো হবে সরকার ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে। প্রিন্ট ও ডিজিটাল মাধ্যমে ভিডিও, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট ব্যবহার করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।



