আঞ্চলিক ফোরামের অধীনে সহযোগিতায় জোর বাংলাদেশ-ভুটানের

ভূটান এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভা
ঢাকায় ভুটান এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভা (এফওসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বৃহত্তর আঞ্চলিক একীকরণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এবং বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমস্টেক) অধীনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেছে উভয় পক্ষ।
সভাটিতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন ভুটান রাজসভার পররাষ্ট্র সচিব পেমা লেকতুপ দর্জি এবং বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
সভাটি একটি উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার সুযোগ রাখা হয়। আঞ্চলিক ফোরামের পাশাপাশি বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
উভয় পক্ষ তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধন পুনর্ব্যক্ত করে এবং রাজনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন, কৃষি এবং জনগণের মধ্যে আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে।
দুই সরকারের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত আলোচনা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। সংস্কৃতি, পর্যটন, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, একাডেমিক সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ, যুব বিনিময় এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে বর্ধিত সহযোগিতার বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা জোরদার করা, বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) আওতায় পণ্যের পরিধি সম্প্রসারণ এবং একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) উদ্যোগের প্রতি সমর্থন ও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ ও যৌথ সমৃদ্ধি প্রসারে এর সম্ভাবনাকেও স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি, পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কুড়িগ্রামে ভুটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম দ্রুত চালু করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
চতুর্থ মুক্ত বাণিজ্য সম্মেলনের ফলাফলে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাংলাদেশ-ভুটান অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পরবর্তী মুক্ত বাণিজ্য সম্মেলনটি পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে।






