প্রধানমন্ত্রী
শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর

দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করলেন।
আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।
শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতন ও অনিয়মের মাধ্যমে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বললেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর সরকার।’
‘বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
সরকারপ্রধান জানাচ্ছিলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার ১৭ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে—দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার তালিকাভুক্তি, এসএমই ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে বাজারে আনা, বাজার কারসাজি রোধ, আন্তর্জাতিক মানে আইন সংস্কার, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স কমানো, ব্লকচেইন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার, ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে ডিজিটাল বিও হিসাব চালু, বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন করার উদ্যোগ।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শেয়ারবাজারে ধসের কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বাজার কারসাজি, আইপিও ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, আর্থিক তথ্যের অস্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ, নীতিগত অসঙ্গতি ও পুঁজিবাজারবান্ধব করনীতির অভাবের কথা উল্লেখ করেন।
‘শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুদক ইতোমধ্যে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি বাজার কারসাজির ঘটনায় বিএসইসি ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও দুদকে পাঠানো হয়েছে’, যোগ করেন তারেক রহমান।
এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান অভিযোগগুলো তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






