শিশু-কিশোর, মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে নতুন প্রকল্প
- প্রশিক্ষক প্যানেল তৈরির জন্য ২৪৭৫ শিক্ষককে দেওয়া হবে সাইবার সিকিউরিটির প্রশিক্ষণ
- পর্নোগ্রাফি, হ্যাকিং, ফিসিং, অস্ত্র প্রদর্শনী, ড্রাগ ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ইন্টারনেট এখন কিশোর কিশোরীদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের শিশু-কিশোর ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের ক্ষতিকর প্রভাব ও সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষিত রাখতে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ‘নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী তার ক্ষমতাবলে এটি অনুমোদন দিয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধ, তথ্যের সঠিকতা যাচাই এবং ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
সম্প্রতি দেখা গেছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশু-কিশোরদের মধ্যে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কিশোরী ও তরুণীরা নানাবিধ হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন, ভুয়া প্রোফাইল এবং গোপনীয় ছবি শেয়ারের মতো অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে বেশি। ২০১৫ সালের একটি গবেষণার তথ্য টেনে জানানো হয়, মাধ্যমিক পর্যায়ের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশই সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে নিজেদের অসহায় বোধ করে।
এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রকল্পটির অধীনে ৩৮ হাজার ১৮০ শিক্ষার্থীকে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী প্রশিক্ষক প্যানেল তৈরির লক্ষ্যে ২ হাজার ৪৭৫ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিশু-কিশোরদের জন্য প্রস্তুত করা হবে বিশেষ ইন্টারঅ্যাক্টিভ কনটেন্ট এবং সচেতনতামূলক দুটি প্রতিযোগিতামূলক আসরের আয়োজন করা হবে।
একই সঙ্গে অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজনদের সচেতন করতে সারাদেশে ৫০৫টি সেমিনার বা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা ও যোগাযোগের অপরিহার্য এই মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের অনাগ্রহ তৈরি না করে, ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহারের অভ্যস্ত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।



