এক মাসেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ৭৫ শতাংশ : এমএসএফ

ঘরের ভেতর থেকে শুরু করে পথেঘাটে, কোথাও যেন নিরাপদ নয় নারী ও শিশুরা। কখনো ধর্ষণ, কখনো সংঘবদ্ধ যৌন নিপীড়ন, আবার কখনো নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হচ্ছে নারী ও শিশুদের। সংখ্যার হিসাবে এক মাসে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা খুব বেশি না বাড়লেও অপরাধের ধরনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। বিশেষ করে এক মাসের ব্যবধানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। বেড়েছে যৌন নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনাও।
আজ শনিবার প্রকাশিত মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) অক্টোবর মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার এমন চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা ছিল ৩৫৪টি। অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৭টিতে। অর্থাৎ এক মাসে ঘটনা বেড়েছে তিনটি বা প্রায় শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে এই বৃদ্ধি সামান্য হলেও অপরাধের ধরনভিত্তিক বিশ্লেষণে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এমএসএফের পর্যবেক্ষণে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে। অক্টোবরে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৬৯টি। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৭০টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে একক ধর্ষণের তুলনায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পরিসংখ্যান আরও বেশি উদ্বেগের। সেপ্টেম্বরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১২টি। অক্টোবরে তা বেড়ে হয়েছে ২১টি। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ৯টি বা ৭৫ শতাংশ।
একই সময়ে ধর্ষণের ঘটনাও ৭টি থেকে বেড়ে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা ১৬টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫টি। এক মাসে এ ধরনের অপরাধ বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। তবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ১০টি থেকে কমে ৪টিতে এবং ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ৩৬টি থেকে কমে ৩৪টিতে নেমেছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সংখ্যা কমলেও যৌন সহিংসতার সামগ্রিক চিত্রকে স্বস্তিদায়ক বলার সুযোগ নেই। বরং সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার গভীরতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির মতে, যৌন সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা শুধু একজন ভুক্তভোগীর জীবনকে বিপর্যস্ত করে না, এর অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ে তার পরিবার ও সামাজিক পরিসরেও। তাই অপরাধ সংঘটনের পর মামলা কিংবা গ্রেপ্তারের মধ্যেই দায়িত্ব শেষ হওয়ার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি।
নারী ও শিশুদের প্রতি অন্যান্য সহিংসতার পরিসংখ্যানেও উদ্বেগের ছাপ রয়েছে। এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৫২টি থেকে বেড়ে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। আরও উদ্বেগজনক হলো হত্যার ঘটনা। সেপ্টেম্বরে নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা ছিল ৮০টি। অক্টোবরে তা বেড়ে হয়েছে ৮৪টি।
অন্যদিকে, আত্মহত্যার ঘটনা ৩৫টি থেকে কমে ৩০টিতে নেমেছে। অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ২৭টি থেকে কমে হয়েছে ১৪টি। নবজাতক উদ্ধারের ঘটনাও ৯টি থেকে কমে ৬টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব ঘটনায় সংখ্যা কমাকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।



