কৃষিতে শ্রম নারীর, সিদ্ধান্ত পুরুষের

সংগৃহীত ছবি
দেশের কৃষি পরিবারগুলোয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এখনো পুরুষকেন্দ্রিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, দেশের ৯১ দশমিক ৯ শতাংশ কৃষি পরিবারই পুরুষপ্রধান। বিপরীতে পরিবারের প্রধান হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র ৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী। ফলে কৃষিতে নারীর শারীরিক শ্রম গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পরিবার ও গ্রামীণ অর্থনীতির মূল সিদ্ধান্তগুলোতে তাদের সরাসরি অংশীদারত্ব সীমিত রয়ে গেছে।
গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কৃষি পরিবারে আয়-ব্যয়, উৎপাদন ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত পুরুষের হাত ধরেই আসে।
কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে পুরুষ থাকলেও কৃষি বিষয়ক যে কাজগুলো থাকে সেগুলোর অনেকাংশই পরিবারের নারীরা করে থাকেন। ধানের ক্ষেত্রে যদি বলি— ধান সিদ্ধ করা, শুকানো, মাড়াই করা ইত্যাদিসহ অনেক কাজই আমাদের দেশে নারীরা করে থাকেন। কিন্তু তাদের কাজ সে তুলনায় মূল্যায়ন করা হয় না।’
তার ভাষ্য, বর্তমানে শিল্পায়নের কারণে পুরুষরা শহরমুখী। ফলে নারীদেরই কৃষিকাজ করে যেতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষিকাজের সব ধরনের সেবা ফোনেই মিলবে। তখন নারীরা আরো বেশি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই বিশেষজ্ঞ বলছেন, ৮.১ শতাংশ নারী-প্রধান পরিবারের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। মূলত স্বামীর অকালমৃত্যু, বিয়েবিচ্ছেদ কিংবা পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকায় বাধ্য হয়ে তারা পরিবার প্রধানের ভূমিকা নিচ্ছেন। এসব পরিবারগুলোয় নারীরা স্বায়ত্তশাসিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেলেও প্রথাগত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা পূর্ণ ক্ষমতায়ন অর্জন করতে পারেন না।
এমনিতে সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে নারীরা অনেকেই মাঠে গিয়ে কাজ করতে পারে না। কিন্তু বাড়িতে তারা যেসব কাজ করে— তা যদি জিডিপির আওতায় আনা হয় তাহলে দেখা যাবে তাদের অংশ মোটেও কম নয়। তাছাড়াও ব্যাংক ঋণ লাভ, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও বাজারে সরাসরি প্রবেশের ক্ষেত্রে নারী গৃহপ্রধানরা নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়ে চলেছেন।
ড. ইসলামের ভাষ্য, গ্রামীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া টেকসই নারী ক্ষমতায়ন বাস্তবে রূপ নেবে না। এজন্য সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ সেবা, ঋণ সুবিধা এবং প্রণোদনাগুলো সরাসরি নারী কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে জোরদার উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে পরিবারে একক কর্তৃত্বের বদলে স্বামী-স্ত্রী তথা পরিবারের সদস্যদের যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিশ্চিত হবে প্রকৃত ক্ষমতায়ন।







