জ্বালানি তেল নিয়ে ১২ দফা সুপারিশ সংসদের বিশেষ কমিটির

সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করাসহ মোট ১২ দফা সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।
রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ নিয়ে সুপারিশ দেওয়ার জন্য গত ২৬ এপ্রিল গঠন করা হয়েছিল এ বিশেষ কমিটি। এতে ছিলেন সরকারি দলের ৫ জন এবং বিরোধী দলের ৫ জন সদস্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিটি দুটি বৈঠক করে। বিশেষ কমিটি মনে করে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। বর্তমান সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।
কমিটির অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে— জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করে ডিজিটাল মনিটরিং চালু, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করা, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার (এলএনজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি) বৃদ্ধি, ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপ লাইন ও এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল–২ দ্রুত বাস্তবায়ন করা। জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা। বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্টাডি করা প্রয়োজন। রুফ টপে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সে সোলারে চলছে কিনা, এর তদারকি জোরদার করার জন্যও সুপারিশ করা হয়।
সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থার সুপারিশ করে বিশেষ কমিটি। তেল, গ্যাস, কয়লা, সোলার, উইন্ড এ সকল খাত থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে দেওয়া হয় একই সুপারিশ।
কমিটির বিরোধী দলের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ১০টি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয় প্রতিবেদনে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা পূর্বাভাসের জন্য সরকারের উচিত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কমিটির মাধ্যমে সমীক্ষা করানো। সরকারের চাহিদার অতিরঞ্জিত পূর্বাভাস তৈরি করা উচিত নয়। আপাতদৃষ্টিতে, বর্তমান সময়ে দেশে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন না-ও থাকতে পারে। কয়লা সাশ্রয়ী হওয়ায় এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। আমদানিকৃত গ্যাসের দাম বেশি হওয়ায় দেশীয় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো এবং দ্রুত জ্বালানি অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ করা। তুলনামূলক কম ব্যয়ে উৎপাদন বাড়াতে গ্যাস কূপগুলোর ওয়ার্কওভার গ্রহণ এবং দ্রুত ফলদায়ক কুপগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো।
জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধন অবকাঠামো শক্তিশালী করা। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো। জ্বালানি সংকটকালীন সময়ে সরকারি দপ্তরগুলো কম যানবাহন ব্যবহার করতে পারে এবং গাড়ির আসন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। টেকসই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠান এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা যেতে পারে। কোনো একক জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বহুমুখী করার সুপারিশ করা হয় বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিবেদনে।




