দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে জোর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন। ছবি : সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নরওয়ের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নরওয়ে এখন প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, পাটজাত পণ্য ও হস্তশিল্প রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ ও প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের বিনিয়োগ আহ্বান জানান।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও কম-কার্বন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে নরওয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করা হয়। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য নরওয়ের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে নরওয়েসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
জবাবে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ ও নরওয়ের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নরওয়ে পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বৈঠকে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






