কাদের গনি চৌধুরী
সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা উচিত সাংবাদিকদের

ছবি: বাসস
সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। সত্য যা, সেটিই তুলে ধরতে হবে। সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে সাংবাদিকতা হয় না।
বুধবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে বাসসের মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘সাংবাদিকতা, ভিডিও সাংবাদিকতা ও মোবাইল সাংবাদিকতা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীন, সত্যনিষ্ঠ ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে। সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের প্রধান উপায় হলো জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা এবং অসত্য সংবাদ না লেখা।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার কাজ শুধু তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা নয়। তথ্য সঠিক ও নির্ভুল কি না, তা যাচাই করাও সাংবাদিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জনগণকে দেশের ও বিশ্বের সঠিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানোই সাংবাদিকতার অন্যতম উদ্দেশ্য।
সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায় ও অনিয়ম তুলে ধরে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের বিবেক ও সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেন বাসসের প্রধান সম্পাদক।
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা একজন সাংবাদিককে সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
ভালো সাংবাদিক হতে নিয়মিত বই ও সংবাদপত্র পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ওপর লেখা বই সংগ্রহ করে নিয়মিত পড়তে ও অনুশীলন করতে হবে। জানার জন্য পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।
সাংবাদিকদের ‘জাতির বিবেক’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিবেকের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকদের দলদাসে পরিণত হওয়া উচিত নয়। জনগণ দাসত্বের সাংবাদিকতাকে ঘৃণা করে। তাই সাংবাদিকদের সমাজের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংবাদপত্রকে জনগণের সংসদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘নিউজপেপার ইজ দ্য পিপলস পার্লামেন্ট অলওয়েজ ইন সেশন’। অর্থাৎ সংবাদপত্রই জনগণের সংসদ, যার অধিবেশন সব সময় চলমান।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা শিক্ষার্থীর মতো প্রতিদিন পরীক্ষা দেন। দেশের মানুষ সেই পরীক্ষার পরীক্ষক। তারা প্রতিদিন বিচার করেন সাংবাদিকরা কী লিখছেন, তা সত্য না মিথ্যা এবং সংবাদটি কতটা বস্তুনিষ্ঠ। তাই সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধও অনেক বেশি।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান) ড. মো. মারুফ নাওয়াজের সঞ্চালনায় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পারভীন সুলতানা রাব্বী, উপপরিচালক (বেতার অনুষ্ঠান) মো. আবুজার গাফফারীসহ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।
এক দিনের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বাসসের ৪০ জন মফস্বল সাংবাদিক অংশ নেন।



