জুয়ায় জেল ১ মাসের বদলে ৭ বছর, জরিমানা ১০০ টাকা থেকে ৫ কোটি
- আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে আজ

সংগৃহীত ছবি
এখন থেকে যেকোনো ধরনের জুয়া খেলার অপরাধে সাত বছর জেল খাটতে হবে, যা আগে ছিল এক মাস। পাশাপাশি অর্থদণ্ড হবে ১০০ টাকার বদলে ৫ কোটি। এ ছাড়া ম্যাচ ফিক্সিং (পাতানো খেলা) করলে দায়ী ব্যক্তির শাস্তি হবে সাত বছরের জেল বা ১ কোটি টাকা জরিমানা। শুধু তাই নয়, জুয়ার মাধ্যমে অর্থ পাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করলে ১০ বছর জেল বা জরিমানা গুনতে হবে ১০ কোটি। এসব বিধান রেখে ‘বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে আজ। এক্ষেত্রে বাতিল হচ্ছে দেড়শ বছরের পুরনো আইন ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭’।
পুরনো আইনে অনলাইন জুয়া বা ম্যাচ ফিক্সিংসহ অনেক বিষয়ই নেই। ২০১৯ সালে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন জুয়ার আসর থেকে শতাধিক ব্যক্তি আটক হলে আইনের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তখন আলোচনায় আসে। যদিও ওই আইনে কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে অনলাইন জুয়া সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। এই জুয়ার বিভিন্ন চক্রে জড়িয়ে নিঃস্ব হচ্ছে লাখো মানুষ। কিন্তু বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইন জুয়ার প্রকোপ থামাতে পারছে না সরকারের সংশ্লিষ্টরা। ফলে জুয়াড়িরা গ্রেপ্তার হলেও সহজেই মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার। গ্রেপ্তারের পর তারা সহজে ছাড় পাবে না।
নতুন আইন করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে খসড়ায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে জুয়া, অনলাইন জুয়া বন্ধে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বর্তমান আইনে ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে কোনো বিধান নেই। এ ছাড়া অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন (VPN), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি এবং ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে জুয়া, অর্থ পাচার ও প্রতারণার বিষয়েও নেই কোনো বিধান। এসব অপকর্মের কারণে বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুয়ার শাস্তি প্রসঙ্গে খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, এটি কার্যকর হলে কোনো ব্যক্তি ভুয়া সিম বা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র, আঙুলের ছাপ, মুখমণ্ডল, বায়োমেট্রিক তথ্য বা ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করে জুয়া বা বেটিং-সংক্রান্ত অ্যাকাউন্ট খুললে সাত বছরের জেল বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। কেউ ‘আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলার’ অপরাধ করলে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ‘দূরবর্তী জুয়া’ ও ‘অনলাইন জুয়ার’ অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অপরাধটি যদি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, বিদেশি সার্ভার বা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তাহলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল বা ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রয় ও বিতরণ করলে অনধিক তিন বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাশাপাশি বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।




