নীতিমালা বাতিলের দাবিতে সার ব্যবসায়ীদের অবস্থান ধর্মঘট

সংগৃহীত ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন খুচরা সার বিক্রেতারা।
সোমবার (১১ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে চতুর্থবারের মতো মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন তারা। এতে খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফোরকান ও সেক্রেটারি সেলিমের নেতৃত্বে সারা দেশ থেকে আগত কয়েক হাজার খুচরা সার বিক্রেতা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, ২০২৫ সালের নীতিমালা অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু আমলা একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে তাড়াহুড়া করে প্রণয়ন করেন। এতে অংশীদারদের মতামত নেওয়া হয়নি। এটি বাস্তবায়ন হলে ৪৬ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা বেকার হয়ে যাবে। মাঠপর্যায়ে তাদের বিনিয়োগকৃত লাখ লাখ টাকা অনাদায়ি থেকে যাবে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
এই নীতিমালা বাতিল করে সব অংশীদারের মতামত নিয়ে নতুন যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান বক্তারা। না হলে দেশব্যাপী সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে সার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সারা দেশে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে রাস্তাঘাট অচল করে দেওয়া হবে বলেও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এর আগেও নীতিমালা-২০২৫ বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে তিনবার বিএফএ ও খুচরা সার বিক্রেতারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদের নির্দেশে সার নীতিমালা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের করণীয় বিষয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রধান সেলিম খানের কাছে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, খুচরা সার বিক্রেতাদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে মানবিক দৃষ্টিতে। সরকার অংশীদারের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা এ বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি। অংশীদারদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। শিগগির সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করব। এমন একটি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানাব, যেখানে অংশীদারদের স্বার্থই রক্ষা হবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্বে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে— জানতে চাইলে সেলিম খানের ভাষ্য, অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ীদের কোনো সঠিক তালিকা প্রস্তুত হয়নি। আর কেউ যদি অন্যায়-অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হয় তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্সে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
জাতীয় সংসদে চিফ হুইপের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে ফ্যাসিবাদের সময়ে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে— এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব সেলিম খান জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন— সংসদের সব সদস্য যদি এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকারের বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে তিনি জানান, সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল ও নতুন করে নিয়োগের বিষয়ে আমাদের কাছে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।




