বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি
দেশের দুই নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বান্দরবানের বান্দরবান স্টেশনে সাঙ্গু নদী এবং কক্সবাজারের লামা স্টেশনে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
আজ বুধবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশেও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন এসব এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি এবং পরবর্তী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা
গত ২৪ ঘণ্টায় গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন এ নদীগুলোর পানি আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। একই সময়ে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট ও ময়মনসিংহেও বাড়ছে নদীর পানি
মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু স্থানে এসব নদী বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুরে তিস্তা বিপদসীমা ছাড়াতে পারে
রংপুর অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুরমা-কুশিয়ারায় সতর্কসীমায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারা নদীর পানি প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী তিন দিনে উভয় নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
এ সময় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলো সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা বা প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।




