বই পড়ায় নতুন প্রজন্মকে আগ্রহী করতে চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় অংশ নেন
শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটাতেও জোর দিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে সারা দেশের শিল্পকলা একাডেমিগুলো সক্রিয় করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে বলেছেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।
আজ বুধবার বিকালে সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
উপপ্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি পাঠচক্র, বই পড়া প্রতিযোগিতা এবং এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিয়েছেন।
‘আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে’, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরেন শাহাদাৎ স্বাধীন।
বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজনের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া ও প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো তাকে জানানো হয়।
প্রস্তাবিত উৎসবে সার্কাস, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিনির্ভর নানা আয়োজন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। উৎসবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সভায় জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে উপস্থিত সবারই কোনো না কোনো যোগ্যতা রয়েছে। সবাইকে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।’
বৈঠকে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




