পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করতে হবে

সংগৃহীত ছবি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশে নিযুক্ত আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো এইচ. উশিয়ামা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ডব্লিউএফপির দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি সীমিত সম্পদের মধ্যেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ডব্লিউএফপির অব্যাহত সহায়তার জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তাঁদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য ও পুষ্টিসহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেকসই সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে স্কুল মিলস কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপির অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বললেন, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এ সময় পরিবেশগতভাবে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণে সরকারের অগ্রাধিকার এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিসহ ডব্লিউএফপির কার্যপরিধার আওতাভুক্ত সরকারি উদ্যোগগুলোতে সংস্থাটির সহযোগিতা কামনা করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি।
কোকো এইচ. উশিয়ামা বলেন, ক্ষুধার মূল কারণগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি খাতে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর যে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় ডব্লিউএফপি কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি খুলনা বিভাগ ও হবিগঞ্জে ডব্লিউএফপির চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ভূমিকম্প–প্রস্তুতি কার্যক্রমে সংস্থাটির সম্পৃক্ততার চিত্র তুলে ধরেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া এবং একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএফপির অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে।




