বাতিল ৪৫ হাজার সাব-ডিলার
বিতর্কিত ২০২৫-এর সার নীতিমালা বাস্তবায়নের নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি
আন্দোলন ও চরম অসন্তোষের মাঝেই বিতর্কিত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫ (সংশোধিত)’ বাস্তবায়নে যাচ্ছে সরকার। নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে সারা দেশে প্রায় ৪৫ হাজার সাব-ডিলার বা খুচরা সার বিক্রেতার ডিলারশিপ বাতিল হতে যাচ্ছে।
রবিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং দপ্তর থেকে এই নীতিমালা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশটিতে স্বাক্ষর করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম।
যদিও গত ৩০ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যমান খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এদিকে জনবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিতর্কিত এই নীতিমালা বাতিলের দাবিতে দেশের ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতারা বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তারা হুমকি দিয়েছিলেন, দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি উপেক্ষা করেই সরকার নীতিমালাটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল।
এই বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম বললেন, কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতেই ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫ (সংশোধিত)’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকের স্বার্থরক্ষা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
নীতিমালায় যা আছে
জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বিতরণের জন্য ন্যূনতম ৯ জন ডিলার থাকবেন। মূল ব্যবসা কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রতিটি ডিলারের আরও দুটি বিক্রয় কেন্দ্র থাকবে। সংশোধিত নীতিমালায় বিসিআইসি এবং বিএডিসির আলাদা কোনো ডিলার ব্যবস্থা থাকবে না। সবাইকে সমন্বিতভাবে ‘সরকারি সার ডিলার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট জেলার চাহিদা ও কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনা করে ডিলারের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও জেলা সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা কমিটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। একই ব্যক্তি বা পরিবারের একাধিক সদস্য ডিলারশিপ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় শূন্য পদের বিপরীতে দ্রুত আবেদনের ভিত্তিতে বাছাই শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ডিলারের নিজস্ব গুদাম ও সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দিতে একজন ডিলারের অধীনে থাকা দুটি বিক্রয় কেন্দ্রে দুজন বিক্রয় প্রতিনিধি থাকবেন, যাদের নিয়োগ দেবে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। বিদ্যমান ডিলারদের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা ও শর্ত পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। সংগঠনটির নির্বাহী সচিব রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, এই জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা বাতিলের দাবিতে অচিরেই দেশের সব ডিলারকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিএফএর সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বললেন, ‘আমরা সবসময় কৃষক ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় কাজ করি। তবে ২০২৫ সালের এই বিতর্কিত নীতিমালাটি তৈরি করেছিলেন বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী তৎকালীন কৃষি সচিব এবং শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব এমদাদুল্লাহ মিয়ান ও তার সঙ্গীরা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান জনবান্ধব সরকারও আমাদের যুক্তিসংগত দাবি শুনছে না।’
তিনি যোগ করেন, ‘ফ্যাসিবাদের প্রণীত এই জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়ন না করে সব পক্ষের স্বার্থরক্ষায় একটি নতুন কল্যাণমুখী নীতিমালা তৈরির জোর দাবি জানাচ্ছি। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আমরা সব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির একটি জরুরি সভা ডেকেছি, সেখান থেকেই আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’





