বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ
দেশি পর্যটকদের রাত যাপনে প্রথম পছন্দ আত্মীয়স্বজনের বাড়ি
- হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে রাতে থাকা পছন্দের নয়
- আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থাকা নিরাপদ মনে করেন
- টাকা খরচ না হওয়ায় আত্মীয়স্বজনের বাড়িই পছন্দ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রিপন মিয়া। গত বছর বেড়াতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে কোনো হোটেলে ওঠেননি। তিনি প্রায় ১০ দিন ছিলেন নিউ ইয়র্কে এক আত্মীয়ের বাসায়।
‘আত্মীয়ের বাসায় থাকায় আমার হোটেল এবং খাবারের খরচ বেঁচে গিয়েছিল। এমনকি কোথাও বেড়াতে গেলেও তাদের গাড়ি ব্যবহার করতে পেরেছি। বিদেশের মাটিতে এটি অনেক বড় পাওয়া’- আগামীর সময়কে বললেন রিপন।
রিপনের মতো অনেক বাংলাদেশি পর্যটক একই কাজ করেন। শুধু বিদেশেই নয়, দেশে ভ্রমণেও বাংলাদেশের পর্যটকদের প্রথম পছন্দ আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের বাড়ি। এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের পর্যটকরা হোটেল-মোটেলে থাকা পছন্দ করেন না। যেকোনো প্রয়োজনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দই হলো আত্মীয়স্বজনের বাসা। এতে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাদের খোঁজখবর নেওয়া যায়, পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় হয় এবং নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতাও পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় ট্যুরিজম অ্যাকাউন্ট তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত মডার্নাইজেশন অব ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস স্টাটিসটিক্যাল প্রকল্পের পরিচালক তোফায়েল আহমদের সঙ্গে। মঙ্গলবার তিনি আগামীর সময়কে জানালেন, পর্যটনশিল্পের বিস্তারিত নিয়ে এটিই বিবিএসের সর্বশেষ অ্যাকাউন্টস প্রতিবেদন। ২০২০ সালে এটি করা হয়েছিল।
কুড়িগ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন তুলি বেগম। হঠাৎ করেই তার ক্যানসার ধরা পড়ে। ঢাকার সিএমএইচে তার কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। এ অবস্থায় তিনি প্রথম কয়েকদিন রাজধানীর মিরপুরে মাটিকাটা এলাকায় বান্ধবীর বাসায় ছিলেন। এরপর পুরো সময় ছিলেন শেওড়াপাড়ায় খালার বাসায়, এক দিনের জন্যও হোটেলে থাকেননি।
এক মেয়ে (অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী) ও ছেলেকে (প্রথম শ্রেণির ছাত্র) নিয়ে ঢাকায় হোটেলে থাকা নিরাপদ মনে হয়নি। আমার স্বামী বগুড়ায় সরকারি চাকরি করেন। তিনি সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন না। ফলে শেষ পর্যন্ত আত্মীয়ের বাসায় থাকাই সবচেয়ে ভালো বিকল্প মনে হয়েছে- বললেন তুলি বেগম।
বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপ পরিচালনাকালে দেশের ভেতরে যারা পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করেছেন, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ রাত যাপন করেছেন বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনের বাসায়। এতে বোঝা যায়, রাত যাপনসহ ভ্রমণে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়ি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ।
বিদেশে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বেশি পছন্দও আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের বাসা। এক্ষেত্রে জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের বাসায় রাতে থেকেছেন সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ পর্যটক। এ ছাড়া স্টার মানের হোটেলে থেকেছেন ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নন-স্টার মানের হোটেলে ২৫ দশমিক ৬৮, মোটেল-গেস্টহাউস বা রিসোর্টে থেকেছেন ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ পর্যটক। ভাড়া বাড়িতে রাতে থেকেছেন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শূন্য দশমিক ৬৮ এবং অন্যান্য স্থানে থেকেছেন ৮ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যটক।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে ভ্রমণ করেন তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৯ দশমিক ৫১ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে। তবে ৬০ বা তার বেশি বয়সের পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।



