‘প্রান্তিকের কল্পজগৎ’ : গ্যালারিতে ভূমিহীন মানুষের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা

সংগৃহীত ছবি
অধিকারভিত্তিক সংগঠন ‘নিজেরা করি’র ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকার ধানমন্ডিতে বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে শিল্প প্রদর্শনী ‘প্রান্তিকের কল্পজগৎ’। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধন করা এ প্রদর্শনীতে ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর সদস্য ও বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের শিল্পীদের যৌথভাবে তৈরি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এসব শিল্পকর্মে ভূমি, দৈনন্দিন জীবন, সম্মিলিত সংগ্রাম এবং নতুন ভবিষ্যৎ কল্পনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
চিত্রশিল্পী আবুল বারক আলভী ও খুলনার ভূমিহীন নেত্রী রাহেলা বেগম প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন। মাহবুবুর রহমানের কিউরেশনে আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে উইমেনস বায়োস্কোপ।
খুলনার পাইকগাছা, নাটোরের বাগাতিপাড়া, নোয়াখালীর চরজব্বর ও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এসব শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। ছাপা কাপড়, অ্যাপ্লিকের কাজ ও সফট স্কাল্পচারের মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে তারা ভূমি, শ্রম, দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ এবং টিকে থাকার সংগ্রাম নিয়ে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেছেন। ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর সদস্য ও শহরের শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত কর্মশালায় ভাবনা ও শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শিল্পকর্মগুলো তৈরি হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, ‘নিজেরা করি’র কাছে সাংস্কৃতিক চর্চা এমন একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ, যার মাধ্যমে মানুষ বুঝতে শেখে কোন কোন সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তি তাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে। গান, নাটক ও শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সদস্যরা সমাজ ও রাষ্ট্রে বৈষম্য কীভাবে টিকে থাকে, তা বোঝার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তারা প্রচলিত ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত নিজেরা করি বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার ভূমিহীন নারী ও পুরুষের সঙ্গে কাজ করে, যাতে তাঁরা নিজেদের অধিকার আদায়ে স্বনির্ভর ও স্বাধীন সংগঠন গড়ে তুলতে পারেন এবং সম্মিলিতভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারেন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নিজেরা করি’র কর্মএলাকায় ভূমিহীন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল ১১ হাজার ৫৮৩টি দল, যাদের মোট সদস্যসংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯১৭। এর মধ্যে নারী দল ছিল ৬ হাজার ৭৫৭টি। সম্মিলিত সংগঠন গড়ে তোলা ও আন্দোলনের মাধ্যমে এসব সংগঠন প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারি ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নারীর অধিকার এগিয়ে নেওয়া এবং মৌলবাদকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্যে কাজ করে।




