‘সৈয়দ আবুল মকসুদ মানুষকে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন’

ছবি: আগামীর সময়
বহুমাত্রিক লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের জীবন, কর্ম ও চিন্তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তার লেখালেখি ও গবেষণা নিয়ে আরও চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রশ্নে সৈয়দ আবুল মকসুদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
সৈয়দ আবুল মকসুদের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকাল ৪টা ১৫মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘সৈয়দ আবুল মকসুদের সাধনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সৈয়দ আবুল মকসুদ স্মৃতি সংসদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে লেখক, গবেষক, পরিবেশকর্মী, কবি, সাংবাদিক ও আইনজীবীরা অংশ নেন।
আলোচনায় লেখক ও গবেষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখালেখি ও গবেষণা ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার ও শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। তথ্যের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে অনুসন্ধান করতেন। বাংলাদেশের জাতি গঠন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জনগণের সংগ্রাম ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্ব নিয়ে তার কাজ গুরুত্বপূর্ণ। অসাম্প্রদায়িকতা, মানুষের অধিকার ও মৌলবাদের বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তার জীবন ও কর্ম তুলে ধরতে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন ফিরোজ আহমেদ।
পরিবেশকর্মী আবু নাসের বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ শুধু বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন না, সমস্যার সমাধানের পথ নিয়েও ভাবতেন। নদী, যানজট, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পার্ক-মাঠ উদ্ধারের আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ধর্মান্ধতা ও রাজনৈতিক ধর্মবিশ্বাসের বিরোধী এই লেখক সরকার পরিবর্তনের চেয়ে ব্যবস্থা পরিবর্তনের চিন্তায় বিশ্বাসী ছিলেন।
কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ মানুষকে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন। তার সামাজিক ভূমিকা ও আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হলেও তিনি কী লিখেছেন এবং কী রেখে গেছেন, তা পাঠ করা, ভাবা ও গবেষণা করা জরুরি। মওলানা ভাসানী, নবাব সলিমুল্লাহ, মহাত্মা গান্ধী থেকে খাইরুন নেসা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার গবেষণা ও চিন্তার জগৎ। সমাজে মুক্তির সন্ধানে প্রয়োজনীয় সাধনার কাজটিই তিনি করেছেন।
অ্যাডভোকেট আরিফ খান বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ শুধু একজন কলামিস্ট ছিলেন না; নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সারা দেশ ঘুরেছেন। নিজের জীবন, পরিবার ও পেশাগত জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। তার গবেষণাধর্মী ও প্রামাণ্য গ্রন্থগুলোও অসামান্য অবদান।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে নিয়ে তার কাজের গভীরতা তুলে ধরে আরিফ খান বলেন, তার অবদানের স্বীকৃতি দিতেও একাধিক পিএইচডি যথেষ্ট নয়। এ ধরনের মানুষ জাতির শিক্ষক; তাদের সাধনা ও কর্ম দেশের মানুষকে সমৃদ্ধ করে।



