শিল্পকলায় লালন স্মরণানুষ্ঠান
‘সমতার বোধই লালনের মূল শিক্ষা’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি
‘সমতার বোধই লালনের মূল শিক্ষা। সেটাই যেন আমরা চর্চা করি।’ লালন সাঁইয়ের উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে এ কথা বললেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ধর্ম পালন করা বা না করা ব্যক্তির নিজস্ব স্বাধীনতা। কাউকে আঘাত বা হেয় না করে সবার মতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই লালনের দর্শনের মূল কথা।
আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। লালন সাঁইয়ের গান, দর্শন ও মানবতাবোধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে তার জীবনদর্শনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়।
সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় ধর্মকেন্দ্রিক উগ্রতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে সমতার মনোভাব আনা, ধর্ম কে পালন করবে আর কে করবে না, এটা তার নিজস্ব স্বাধীনতা। কাউকে আঘাত বা হেয় না করে সবার মতকে শ্রদ্ধা করে সমতা আনা, এটাই লালনের মূল শিক্ষা। সেটাই যেন আমরা চর্চা করি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘লালনের জীবন ও সাধনা আমাদের সামনে এমন এক মানবিক সমাজের স্বপ্ন তুলে ধরে, যেখানে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। লালন আমাদের শিখিয়েছেন, মর্যাদা তার জন্মপরিচয়ে নয়, তার মানবিকতা, বিবেক ও কর্মে। লালন সাঁইয়ের দর্শন শুধু আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দর্শন নয়, আমাদের সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক ছিলেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে লালনসংগীত পরিবেশন করেন দেশের বিভিন্ন শিল্পী। শুরুতে লতিফ শাহ পরিবেশন করেন লালনের ‘দৈন্য গান’। এরপর নাসরিন সুলতানা বিউটি গেয়ে শোনান ‘কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ’। আলেয়া বেগমও লালনসংগীত পরিবেশন করেন। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়ে শোনান ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’ এবং মৌসুমী ইকবাল পরিবেশন করেন ‘হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়’।
সংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া পরিবেশন করেন ‘দেখা দিয়েও হে রাসুল’। কানিজ খন্দকার মিতু গেয়ে শোনান ‘ঘরে কেবা জাগে কেবা ঘুমায়’। এরপর লালনের গান পরিবেশন করেন সুমন রায়, পাখি বাউলিয়ানা ও সুলতানা জামান জোছনা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা সমবেতভাবে পরিবেশন করেন ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘আমার ঘর খানায় কে বিরাজ করে’ ও ‘মিলন হবে কত দিনে’ গানগুলো।



