জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র
জাতীয় পর্যায়ের বইপাঠ কার্যক্রমে সেরা পাঠকদের পুরস্কার প্রদান

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিচারকমণ্ডলী ও অংশগ্রহণকারীরা
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের নির্বাচিত বেসরকারি গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’ এর সনদ ও পুরস্কার বিতরণ। আজ সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান। ৭২টি গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন এতে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর ভাষ্য, একসময় ঐশ্বর্য, প্রাচুর্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত ছিল বাংলাদেশ। আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে ইবনে বতুতা পর্যন্ত বহু পর্যটক ও ঐতিহাসিক এই ভূখণ্ডের সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়লেও জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে আবার এগিয়ে নেওয়া সম্ভব দেশকে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে আলোকিত করে এবং গড়ে তোলে জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে তরুণ প্রজন্মকেই।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলার ভাষ্য, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে তরুণদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম। এ ছাড়া বিচারকমণ্ডলীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী এবং লেখক ও সংগঠক সাবিদিন ইব্রাহিম।
করোনাকালীন সংকটের সময় শুরু হয় ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’। এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৯টি গ্রন্থাগারের ৬৪৭ জন পাঠক অংশগ্রহণ করেন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ‘ক’ ক্যাটাগরির পাঠকদের জন্য হুমায়ূন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’ এবং একাদশ শ্রেণি থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ‘খ’ ক্যাটাগরির পাঠকদের জন্য জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ নির্ধারণ করা হয়।
চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি বিভাগ থেকে ১০ জন করে মোট ২০ জন পাঠককে সেরা পাঠক হিসেবে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ী প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা সমমূল্যের বই, ৩ হাজার টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড এবং একটি সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ ছাড়া চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য পাঠক-শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে ১ হাজার টাকা সমমূল্যের বই, ১ হাজার টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড এবং একটি সনদপত্র প্রদান করা হয়।





