বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন

ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুষ্ঠান বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নজরুল জয়ন্তী’।
শুক্রবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘নজরুল ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার পাশাপাশি ছিল আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক কুদরত-ই-হুদা। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক ও শিক্ষক তানিয়া কামরুন নাহার, লেখক ও গবেষক আসলাম আহসান এবং প্রাবন্ধিক ও গবেষক রাজীব সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
আলোচনা পর্বে খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাঙালি জাতি যেমন বহু জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে, তেমনি নজরুলের কবিতা, গান ও লেখায়ও সেই বহুত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমান বিশ্বে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে মানুষে-মানুষে যে বিদ্বেষ ও বিভেদ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা অনস্বীকার্য।
‘নজরুল ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধে কুদরত-ই-হুদা বললেন, নজরুল শুধু মধ্যবিত্ত বা বুর্জোয়া শ্রেণির কবি নন; তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে জেলে, তাঁতি, কুমারসহ দারিদ্র্যে নিষ্পেষিত নিম্নবর্গের মানুষেরও। তিনি তুলে ধরেন, নজরুলের চেতনায় যেমন দরিদ্র মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে আধিপত্যবাদবিরোধিতা এবং কর্মঠ মানুষের আত্মবিশ্বাসী সত্তার প্রকাশ।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করেন ফাহমিদা সুলতানা নির্ঝর, ইমরুল হাসান, মিজানুর রহমান সজল এবং রেজিনা খন্দকার। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিক্ষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান এবং ছায়ানটের শিক্ষক ও শিল্পী মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া।
বাদ্যযন্ত্রে সঙ্গত দেন রবীন্দ্রনাথ পাল, বরকত নেওয়াজ এবং মো. মামুনুর রশিদ। অনুষ্ঠান শেষ হয় কঁচি কাচার মেলা পরিবেশিত দুটি দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে।




