গাড়িচালক হত্যায় হাসিনাসহ ৪৫ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে
- মামুন-মনিরুলসহ ৭৭ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

ফাইল ছবি
জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন এলাকায় গুলিতে নিহত হন গাড়িচালক মো. এমদাদুল হক। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জন জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাবেক অতিরিক্ত আইজি ও বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মো. মনিরুল ইসলামসহ ৭৭ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম গত ২৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে বলা হয়, ছাত্রদের ন্যায্য কোটা সংস্কার আন্দোলনকে মুছে দিতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি করে।
অভিযুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— সাবেক সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওয়াকিল উদ্দীন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্দেশদাতা আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মোতাবেক আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে গুলি করে হত্যা অপরাধকে সমর্থন করেছে।
এতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে জারিকৃত সরকারি চাকরি নিয়োগ ব্যবস্থায় কোটা সংস্কার সার্কুলারটি ২০২৪ সালের ৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের বিভাগ অবৈধ হিসাবে ঘোষণা করেন। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিলের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে বিক্ষোভ, সমাবেশ, ক্লাস বর্জন, অবস্থান কর্মসূচি এবং সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ করে। ছাত্রদের এ আন্দোলনের সঙ্গে আপামর জনগণ এবং বিএনপি জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থন জানায়। পরে ঢাকা শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বাড্ডা এলাকার আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক বাড্ডা থানাধীন নতুন বাজার এলাকায় জড়ো হয়। সেই মিছিলে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এমদাদুল হক। ছাত্রদের মিছিলটি বাড্ডা নতুন বাজার থেকে শুরু হয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ছাত্রদের সঙ্গে মিলিত হয়ে রামপুরা ব্রিজের ওপর সমবেত হয়। মিছিলটি বাড্ডা থানাধীন এএমজেড হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রথমে ইটপাটকেল এবং পরে গুলি করে। এ সময় আসামি আবু তাহেরের ছোড়া গুলি এমদাদুল হকের কপালে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে এএমজেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা গুরুতর বলে জানান চিকিৎসক। পরামর্শ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার। তবে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করাকালেই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ওই বছরের ২৮ আগস্ট তার চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ১২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ৭৭ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেছেন, ভুক্তভোগীর পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায় সেটা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি। আমরা দ্রুত সময়ে মামলাটির বিচার কাজ শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে চাই।



