কাঠগড়ায় প্রথমে মনমরা, পরে মুচকি হাসিতে আফজাল নাছের

সংগৃহীত ছবি
বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় আবারও সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক আফজাল নাছেরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে আজ বুধবার এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন মো. সেফাতুল্লাহ। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর প্রথমে মনমরা কিছুক্ষণ পর মুচকি হাসতে দেখা যায় তাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে হাজির করা হয় আদালতে। এরপর তার আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের উপপরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন।
তাকে পুলিশ পাহারায় আদালতের কাঠগড়ায় নেওয়া হয় দুপুর ২টা ২৭ মিনিটে। তার গায়ে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মাথায় হেলমেট। কাঠগড়ায় সামনের দিকে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর কাঠগড়ায় পেছনের দিকে এসে এক স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন নাছের। কথা শেষে তিনি ফের সামনে এসে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ান। মাঝেমধ্যে বিরক্তি প্রকাশ করতেও থাকেন।
নিজের আইনজীবীর সঙ্গে ২টা ৩৬ মিনিটে আলাপ করেন তিনি। ২টা ৪০ মিনিটে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলেন আরেকজনের সঙ্গে। এ সময় তাকে কখনো বুকে হাত বাঁধা কখনো রেলিংয়ে হাত রাখতে দেখা গেছে। শুনানি শুরুর আগ মুহূর্তে মুচকি হাসতে থাকেন সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক।
তার রিমান্ড শুনানি শুরু হয় ২টা ৪৮ মিনিটে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ‘তিনি এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি৷ ইতোপূর্বে তাকে রিমান্ডে হয়েছিল। তিনি ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা ছিলেন। বিভিন্নভাবে ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছেন। এই মামলার তদন্তের স্বার্থে আরও সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। আসামিপক্ষে হেলাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন,’ যুক্তি দেন তিন।
শুনানিতে তিনি জানান, ফ্যাসিস্ট আমলে পুরস্কার পেয়ে হয়েছে বহিষ্কার। ফ্যাসিস্টের কোন সহযোগিতা করেনি। এই মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। এখন রিমান্ডের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। প্রয়োজন হলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। উভয় শুনানি শেষে আদালত থেকে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার জুলাই আন্দোলনে নিহত দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এই মামলায় রিমান্ড শেষে গত ৫ এপ্রিল পাঠানো হয় কারাগারে। ওইদিন পল্টন মডেল থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর মঞ্জুর করা হয় তিন দিনের রিমান্ড।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায় ও ভাঙচুর করে ডিবির হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।



