বিচারক মওকুফ করলেও লতিফ সিদ্দিকী জানালেন, হাজিরা দিতে চান

আদালতে হাজিরা দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিনে থাকা সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার এই হাজিরা মওকুফ করেন। তবে তিনি বিচারককে জানান, এই মামলায় হাজিরা দিতে চান।
এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আসামিদের হাজিরার জন্য ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। হাজিরা দিতে আদালতে আসেন লতিফ সিদ্দিকী। শুনানি শেষে আদালত আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।
এ সময় বিচারকের উদ্দেশে লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘এভাবে বিচারব্যবস্থা চলতে পারে না। গত ছয় মাস আগে এই মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আজ এই আদেশ দিলেন। আমি আদালতে আসব, হাজিরা দিব। আমার আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।’
এ সময় বিচারক বলেছেন, সেটি আপনার ইচ্ছে। আপনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
পরে হাজিরা দিয়ে হাসিমুখে আদালত ছাড়েন লতিফ সিদ্দিকী।
লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেছেন, এই মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে লতিফ সিদ্দিকী আদালতকে বলেছেন, তিনি সশরীরে আদালতে এসে হাজিরা দেবেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককে বের করে দেওয়া হলেও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে।
এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম।




