বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস: জামিন নিতে এসে কারাগারে পিএসসি কর্মকর্তা

প্রতীকী ছবি
বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথ। তবে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন তাকে।
আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ কৌশিক দেবনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তার পক্ষে আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম শুনানি করেন। তিনি আদালতকে বলেন, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত নন।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কৌশিক দেবনাথের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন কৌশিক দেবনাথ। তখন তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৮ জুলাই পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে মামলাটি করেন সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত ১৮ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলহোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই বাছাই করা প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও তার উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। পরে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এ জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আগাম মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নফাঁস চক্রটির কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত ছিল। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁসের এই নেটওয়ার্ক বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি এনজিও পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থেকে পরীক্ষার গোপনীয়তা ভঙ্গ করে সরকারি নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।






