গ্রেপ্তার সাবেক মেজর সাদিকের ‘মুক্তিতে বাধা নেই’

কারাগারে থেকে কীভাবে গাড়ি পুড়িয়েছেন সাবেক মেজর সাদিক সেই ব্যাখ্যা দিয়েছে ভাটারা পুলিশ
প্রাইভেটকার পোড়ানোর মামলায় চাকরিচ্যুত মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর ব্যাখ্যা আমলে নেননি আদালত। গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি নাকচ করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম। ফলে অন্য মামলায় জামিন পাওয়া সাদিকের কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানালেন তার আইনজীবী।
আজ রবিবার ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ আলী আদালতে লিখিত ব্যাখা জমা দেন। কারাগারে থেকে সাদিক কীভাবে গাড়ি পুড়িয়েছেন- এর ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়, আসামি কারাগারে থাকলেও তার দেওয়া প্রশিক্ষণে ঘটেছে ঘটনাটি।
এ বিষয়ে সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন জানান, তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা আছে। ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এরপর তাকে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তবে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ করেছেন। আর কোনো মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।
পুলিশের লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মেজর সাদিক চাকরিরত অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে ৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী ভাটারা থানাধীন কেবি কনভেনশন হলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একত্র করে গোপন সভা করেন। সভায় দলটির কর্মকাণ্ড গতিশীল, সমর্থকদের উৎসাহিত করা, দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরিবিষয়ক আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের উদ্দেশে সবাই একত্র হন। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় ১৩ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় কারাগারে আছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, সাবেক মেজর সাদিক প্রধান প্রশিক্ষক এবং কানেক্টরের ভূমিকায় থেকে রূপগঞ্জ থানার পূর্বাচলে রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএসসহ উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টর এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটিতে তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনসহ তার ফ্ল্যাটের একাধিকবার এ ধরনের গোপন প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছিলেন।
এ ধরনের গোপন সভা, প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকে পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হলেও কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। যার ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পলাতক নেতাকর্মীরা মেজর সাদিকের ওই সভা থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়। আসামির পূর্বের নির্দেশনা, অর্থায়ন ও মদদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে মামলার ঘটনার তারিখ ও সময় বাদীর গাড়ি পোড়ান। এজন্য সন্দেহভাজন আসামি মেজর সাদিকের এ মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য গোপন ও প্রকাশ্যে তদন্তে পাওয়া যায়।
২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিন মাসের কারাদণ্ড দেন সামরিক আদালত। তখন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ৭ আগস্ট গাড়ি পোড়ানোসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ভাটারা থানার আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. চাঁদ আলী। পরে গত ১০ আগস্ট আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন আদালতকে জানান, ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ান? এ বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যাখা দিতে নির্দেশ দেন বিচারক।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাতে ভাটারা থানার বিটুমিন গেটের সামনে প্রাইভেট কার রেখে বাসায় গিয়েছিলেন মনির হোসেন নামে একজন। পরে গাড়িটিতে আগুন লাগার খবরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সংবাদপত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মনির হোসেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৩ নভেম্বরের ‘কমপ্লিট শাট ডাউন’ কর্মসূচির ব্যাপারে জানতে পারেন। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তখন ছাত্রলীগ, যুবলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। সেখানে কারও নাম তুলে না ধরে ২০/২৫ জনকে আসামি করেন।







