‘ভ্যাকেশন জজ’ হলেন ৭২ বিচারক

সারা দেশে ৭২ জন বিচারককে ‘ভ্যাকেশন জজ’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অবকাশকালীন ছুটিতে জরুরি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা গ্রহণ, শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য আগামী ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন এসব বিচারক।
আজ রবিবার (২৪ মে) এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ও পরামর্শ অনুযায়ী অবকাশকালীন জরুরি মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের ভ্যাকেশন জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলার (মহানগর এলাকা ছাড়া) জন্য জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকা মহানগর এলাকা, ঢাকার ১০টি বিশেষ জজ আদালত, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব পালন করবেন বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার জন্য মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, খুলনা মহানগর এলাকার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ খুলনার বিচারক মো. আসাদুল্লাহ, রাজশাহী মহানগর এলাকার জন্য পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক মো. জুলফিকার উল্লাহ এবং রংপুর মহানগর এলাকার জন্য মহানগর দায়রা জজ মো. মশিউর রহমান খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভ্যাকেশন জজরা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে জরুরি ফৌজদারি মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ অনুযায়ী জরুরি দেওয়ানি মামলা গ্রহণ ও শুনানির ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হয়েছে। শিশু আইন, ২০১৩-এর আওতায় গঠিত শিশু আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও তাদের থাকবে—উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।
অবকাশকালীন ভ্যাকেশন ডিউটিতে থাকা বিচারকরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তারা ১৫ দিনের অবকাশকালীন ভাতাও পাবেন। নিজ কর্মস্থলের বাইরে দায়িত্ব পালন করলে বিধি অনুযায়ী পাবেন টিএ/ডিএও।
তবে, শ্রম আদালত, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল, কোর্ট অব সেটেলমেন্ট এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালকে অবকাশকালীন ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে— বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের অবকাশকালীন ছুটি নতুন ব্যবস্থায় দুই ধাপে পালন করা হবে। চলতি বছরের জুন ও ডিসেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। নতুন ব্যবস্থায় জুন মাসের প্রথমার্ধে ১৫ দিন এবং ডিসেম্বর মাসের শেষার্ধে আরও ১৫ দিন থাকবে ছুটি।
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় ।






