অর্থ পাচারের অভিযোগ: শওকত আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য করা আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) তদন্ত করছিল। ওই তদন্তের সময় যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে শওকত আলী চৌধুরীর নামে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি অপ্রকাশিত তহবিলের সন্ধান পাওয়া যায়।
পরে বিষয়টি বাংলাদেশে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা বিএফআইইউকে জানায় এনসিএ। ওই সময় এনসিএ জানিয়েছিল, অর্থের ওই পরিমাণ চার সপ্তাহের জন্য আটকে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে অর্থ ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছিল।
তবে বিএফআইইউর পক্ষ থেকে এনসিএর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়নি এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে রিটকারীর আইনজীবী আদালতকে জানান। পরে এনসিএ অর্থ ছেড়ে দিলে শওকত আলী চৌধুরী তা দুবাইয়ে সরিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী বললেন, দেশের বাইরে কারও কোনো সম্পদ থাকলে আয়কর আইন অনুযায়ী তা ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু শওকত আলী চৌধুরীর নামে থাকা ওই ২৫ মিলিয়ন ডলারের তথ্য তার আয়কর বিবরণীতে ঘোষণা করা হয়নি। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে একটি অ্যাসেসমেন্ট করে তাঁকে জরিমানা ও পেনাল্টি আরোপ করে।
এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রেজোয়ানুল সাইফ দুদক ও বিএফআইইউতে পৃথক দুটি আবেদন করেন। আবেদনে শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ দ্রুত অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি বিএফআইইউর যেসব কর্মকর্তার অবহেলার কারণে ওই অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন করা হয়।
রিটকারীর আইনজীবী জানান, অর্থ পাচারের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতার ব্যবস্থা না থাকলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন। তবে এ ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত আনার সুযোগ ছিল। এনসিএ অর্থ আটকে রেখে বাংলাদেশ সরকারকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি।
এ বিষয়ে পরে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার বিষয়ে রুল জারি করেন। অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব না হওয়ার পেছনে যেসব কর্মকর্তার অবহেলা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আইনজীবী রেজোয়ানুল সাইফ দুদকে যে আবেদন করেছিলেন, সেটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।






