বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
ইতালি, জার্মানি ও কানাডা। স্বপ্নের এসব দেশে মোটা বেতনের চাকরি ও নিশ্চিত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র। সম্প্রতি এমন একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন এজাজুল হক ওরফে রতন (৬৩), নার্গিস বেগম (৪০) ও বাদল (৫৫)। রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪ এর একটি দল।
আজ শনিবার মিরপুরে র্যাব-৪ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি।
র্যাব জানায়, গাজীপুরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্রটি তার সঙ্গে ২২ লাখ টাকার চুক্তি করে। ইতালিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে টাকা নেয়। পরে নানা অজুহাতে গন্তব্য বদলাতে থাকে। একপর্যায়ে বলা হয় ইতালিতে লোক নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর জার্মানিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেখানেও কাজ না হওয়ায় কানাডায় পাঠানোর নতুন আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রতিবারই ভিসা, মেডিকেল, কাগজপত্র যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বিমান টিকিটের খরচের কথা বলে অর্থ আদায় করা হয়।
কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও বিদেশ যাওয়ার কোনো অগ্রগতি হয়নি। সন্দেহ দেখা দিলে ইমরান হোসেন অভিযুক্ত রতনের অফিসে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, অফিসটি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তখন প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর শাহ আলী থানায় মামলা করেন তিনি।
র্যাব কর্মকর্তা কে এন রায় নিয়তি বলেছেন, ‘মামলার পর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথিপত্র ও আলামত জব্দ করা হয়েছে।’
‘প্রাথমিক তদন্তে চক্রটির বিরুদ্ধে আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও অভিযোগ দিতে শুরু করেছেন। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে’, যোগ করেন তিনি।




