নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তৎপর রাজউক : রিয়াজুল ইসলাম

রাজধানীর গুলশান ও বনানীসহ অভিজাত এলাকার পাঁচ কাঠার নতুন বাড়ির প্ল্যানে পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার বা সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে রাজউক অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘নগর উন্নয়নে পয়ঃনিষ্কাশন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও এসটিপি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
রাজউক চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে জানান, নতুন প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাড়িগুলোতে সেপটিক ট্যাংক থাকুক আর না থাকুক, এসটিপি অবশ্যই করতে হবে। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজউক অত্যন্ত তৎপর এবং বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, গুলশান, বনানী, মহাখালী, নিকেতন ও বারিধারা এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় লেক ও হাতিরঝিলের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে ওয়াসা, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীসহ সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায় রাজউক।
রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘস্থায়ী সেমিনারে গুলশান, বনানী, মহাখালী, নিকেতন ও বারিধারা সোসাইটির নেতারা, এসটিপি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মো. জহিরুল ইসলাম এবং প্রধান প্রকৌশলী মো. মোজাফফর উদ্দিন। রাজউক চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এসটিপি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উদ্ভূত সংকটের সাময়িক সমাধান সম্ভব হলেও এই এলাকার দীর্ঘদিনের এত বড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে হাতিরঝিলের বর্জ্য সমস্যার মূল উৎস হিসেবে দাসেরকান্দি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট সেন্টারকে কাজে লাগাতে হবে। সেমিনারে অংশীজনদের মতামত গ্রহণকালে বিভিন্ন সোসাইটির নেতারা দাবি করেন, নতুন প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে যেন এসটিপি বসানোর বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হয়।
এসটিপি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী মো. মোজাফফর উদ্দিন জানান, যেভাবে আমরা শুরুতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা করেছিলাম, আসলে মাঠপর্যায়ে সে রকম কোনো বড় চ্যালেঞ্জ নেই বলেই আজকের সেমিনারে প্রতীয়মান হলো। অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও এসটিপি বাস্তবায়নে কীভাবে সফল হওয়া যাবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মো. জহিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, এই কাজে শতভাগ সফলতার জন্য রাজউকের একক প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, বরং রাজউকের মতোই অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিকতা ও নগরবাসীর সচেতনতা সমানভাবে আবশ্যক।




