মতিঝিল থেকে শুটার বাপ্পি গ্রেপ্তার

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে চাঁদাবাজি ও গুলি ছোড়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালিয়ে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মিন্টুরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা ওসমান গণি বলেছেন, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাপ্পি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে মতিঝিল বিভাগ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমলাপুরে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানিয়েছেন, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এর আগে ১৫ মে ওই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলা হয় মতিঝিল থানায়। মামলার তদন্তে বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘদিন তারা আত্মগোপনে থাকায় আগে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের পর গতকাল রাতেই দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, রিভলভারের পাঁচ রাউন্ড গুলি, পিস্তলের দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে বাপ্পির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে তার নামে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।




