সানেমের সম্মেলনে প্রশ্ন
আ. লীগ বাদ দিলে টিকবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা?

সংগৃহীত ছবি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কতদিন টিকবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা? শুধু বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি মিলে রাজনীতি করলে তা সম্ভব হবে কিনা রয়েছে সংশয়।
আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে শুরু হয়েছে তিন দিনের অর্থনীতিবিদ সম্মেলন। সেখানেই এমন প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। সম্মেলনটির আয়োজক সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মর্ডেলিং (সানেম)।
‘অস্থিরতা থেকে অনিশ্চয়তা : বাংলাদেশের উদীয়মান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা ও প্রবৃদ্ধি’ শিরোনামে হয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন। এতে সভাপতি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক রৌনক জাহান।
মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম। তার মতে, সরকার প্রথমে চাইবে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ, তারপর এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে। এমন পদক্ষপে কিছুটা হলেও রাজি থাকবে বিরোধী দলগুলো।
বক্তব্যে জামায়াত ও এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতা তুলে ধরেন তিনি। সেই সঙ্গে দাবি করেন জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার।
ড. রৌনক জাহান বলছিলেন, ‘অনেক সময় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেন না রাজনৈতিক নেতারা। নিজেদের চিন্তা থেকেই নেন বিভিন্ন পদক্ষেপ। একে অন্যকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।’
উদাহরণ টেনে তিনি জানাচ্ছিলেন, বিরোধী দল দমন করে কিছুটা স্থিতিশীলতা এনেছিলেন শেখ হাসিনা। সেই ফল ভালো হয়নি। ‘এখন যদি একইভাবে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে সেটি কতদিন টিকবে— এটাই বড় প্রশ্ন।’
তার দাবি, এখন বিএনপিকে নিয়ে হচ্ছে সমালোচনা। মানুষের মনে প্রশ্ন, আগের সরকারের পথেই কি হাঁটছে তারা?
আলোচনায় অংশ নেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) সম্মানীয় ফেলো, ড. মির্জা এম হাসান এবং ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মত দেন ব্যারিস্টার সারা। তার ভাষ্য, সংবিধান সংশ্লিষ্ট জটিলতা এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব অধ্যাদেশ এখনো পাস হয়নি, সেগুলো সংশোধন করে সংসদে তোলার দাবি জানাচ্ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবী ।
দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও বিচার হয় না বলে মন্তব্য করছিলেন মীর্জা এম হাসান। ‘শুধু গ্রেপ্তার করাই যেন বড় শাস্তি। ধরাছোঁয়ার বাইরে আসল অপরাধীরা।’ এভাবেই নিজেদের মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
আগামীকাল তৃতীয় দিনের আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হবে সানেম সম্মেলন।

