বিদ্যুৎ বিভাগের অগ্রিম ভর্তুকিতে ‘না’ অর্থ বিভাগের
- ২০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব ফেরত
- আগাম ভর্তুকি নিয়মনীতির পরিপন্থি: অর্থ বিভাগ

ছবিঃ আগামীর সময়
দেশের বিদ্যুৎ খাতের সংকট মেটাতে বিদ্যুৎ বিভাগের চাওয়া ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার ‘অগ্রিম ভর্তুকির’ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের এই সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ নাকচ করে দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবনাটি অর্থমন্ত্রীর টেবিলে উত্থাপন করা হলে তিনি এটাকে আখ্যা দেন ‘অযৌক্তিক’ ও ‘আর্থিক নিয়মনীতির পরিপন্থি’ হিসেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের আদানি গ্রুপসহ আমদানিকৃত বিদ্যুৎ এবং দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের ক্রয়-বিক্রয়জনিত ঘাটতি মেটাতে এই বিশাল অঙ্কের আগাম ভর্তুকি চেয়েছিল বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ছাড় করা হয়েছে ২৯ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা।
আগাম ভর্তুকি দাবির পেছনে তিনটি কারণ উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। সেগুলো হলো- ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২০৮ শতাংশ বৃদ্ধি (৫.০২ টাকা থেকে ১৫.৫০ টাকা), মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন এবং বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও ক্রয়জনিত ব্যয় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে অর্থ বিভাগ জানায়, ‘‘ভর্তুকি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই তা ‘আগাম’ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া প্রচলিত আর্থিক নিয়মনীতির পরিপন্থি।’’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাণিজ্যিক অপারেশন কার্যকর এবং জ্বালানি (কয়লা) কেনাসহ অন্যান্য আর্থিক সম্পৃক্ততার সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত হওয়ার আগেই ‘ট্রেডগ্যাপ’ জনিত ভর্তুকি দেওয়া অযৌক্তিক। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ভর্তুকি প্রদান করা সরকারি ক্রয় নীতিমালার লঙ্ঘন।
চলতি বছরের মার্চ থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের জন্য এই আগাম ভর্তুকি চেয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল নতুন অন্তর্ভুক্ত শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ি ২৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র।
এছাড়াও আদানিসহ বিদ্যুৎ আমদানি এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) নিজস্ব কেন্দ্রের ঘাটতি মেটাতে আইপিপি কেন্দ্রগুলোর জন্যও এই অর্থ চাওয়া হয়েছিল।



