সরকারের এখন প্রধান কাজ তিনটি : ড. কামাল

সংগৃহীত ছবি
সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তার মতে, একই সঙ্গে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশে প্রতিষ্ঠা করতে হবে সুশাসনও।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন ড. কামাল। দলের প্রয়াত সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গণফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই স্মরণসভা।
সভায় ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে একটি নির্বাচিত সরকার। তার প্রত্যাশা, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, বর্তমান বিএনপি সরকার সে বিষয়ে সজাগ থাকবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রহীনতা, গুম, খুন, অর্থ পাচার, দুর্নীতি, একদলীয় নির্বাচন ও সর্বত্র দলীয়করণের কারণে রাষ্ট্রে কোনো জবাবদিহি ছিল না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে কাঙ্ক্ষিত জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এস এম আলতাফ হোসেন, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও সুরাইয়া বেগম।
এছাড়াও স্মরণসভার শুরুতে বক্তব্য দেন মোস্তফা মোহসীন মন্টুর মেয়ে শ্রাবণী মোস্তফা এবং মন্টুর ভাই তৌফিক এহসান। সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে গণফোরামের প্রয়াত এই সভাপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান।




