ঢাকা চেম্বারের ‘ইপিআই’ জানাবে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি

সংগৃহীত ছবি
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ সংকট ও বিনিয়োগ মন্দার মধ্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে ‘ইকোনমিক পজিশন ইনডেক্স (ইপিআই)’ নামে একটি নতুন ত্রৈমাসিক সূচক চালু করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
আজ শনিবার ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এই সূচকের প্রথম মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, ‘প্রচলিত পরিমাপকগুলো স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনগুলো ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ ঘাটতি মেটাতেই রিয়েল-টাইম তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘ইপিআই’ সূচক তৈরি করা হয়েছে।
মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী জানান, ঢাকার ৭৬২ জন উদ্যোক্তার তথ্যে দেখা গেছে—জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষি উৎপাদন কমছে, জ্বালানি সংকটে শিল্পে স্থবিরতা এসেছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় সেবা খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি এসএমই খাতে সহজ শর্তে ঋণ এবং শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিতের দাবি জানান।
নির্ধারিত আলোচনায় পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার সূচকটির প্রশংসা করেন, ‘এটি বর্তমানে ঢাকাকেন্দ্রিক। এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে একে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। বিনিয়োগের সুবিধার্থে একে ‘অগ্রিম পূর্বাভাস সূচক’ -এ রূপান্তর করা প্রয়োজন।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেছেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থার কারণে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি। তবে ব্যবসাকে সহজ করতে আগামী ২ মাসের মধ্যে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৫-২০২৮’ চূড়ান্ত করা হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আয়ের চেয়ে সরকারি-বেসরকারি ব্যয় বেশি হওয়া এবং ভুল বিনিয়োগের কারণে অর্থনীতি স্থিমিত হয়েছে। এর জন্য আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি।’
সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আখন্দ মোহাম্মদ আখতার হোসেন বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং বিডার যুগ্ম সচিব মো. আরিফুল হক নীতি বাস্তবায়নে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন নেতারা ও খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।




