‘এই ফ্লাইওভারের নিচেই কাটবে ঈদ’

ঈদের আনন্দ ছুঁয়ে যাওয়ার কথা ছিল ঘরগুলোতে। হয়তো কোথাও নতুন জামা গুছিয়ে রাখা ছিল, কোথাও গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি, কোথাও সামান্য সঞ্চয় দিয়ে উৎসব কাটানোর হিসাব। কিন্তু ঈদুল আজহার মাত্র দুদিন আগে পল্লবীর কালশী বস্তির শত শত মানুষের জীবন থমকে গেল ভয়াবহ এক আগুনে।
গতকাল রাতে কালশী বস্তিতে লাগা আগুনে পুড়ে যায় ২৫০টিরও বেশি ঘর ও প্রায় ৫০টি দোকান। গৃহহীন হয়ে পড়েন প্রায় হাজারখানেক মানুষ। যাদের মাথার ওপর ছিল টিনের ছাউনি, সামান্য আসবাব, কিছু কাপড় আর বহু বছরের কষ্টে জমানো সামান্য সঞ্চয়। আগুনের পর তাদের রাত কেটেছে ফ্লাইওভারের নিচে, খোলা আকাশের নিচে।
সেই ফ্লাইওভারের নিচেই বসে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী আসমা বেগম। আগুনে পুড়ে গেছে তাঁর ভাড়ার দুটি ঘর। মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে স্বামী, সাত মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকতেন তিনি। স্বামী বর্জ্য সংগ্রহ করেন, আর আসমা নিজে ভাঙারি কুড়িয়ে বিক্রি করেন। সেই কষ্টের সংসারটুকুও এক রাতের আগুনে ছাই হয়ে গেছে।
উচ্ছেদের শঙ্কায় ঈদের আগে কিছু জিনিসপত্র গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন আসমা। কিন্তু ঘরে যা বাকি ছিল, তার সবই পুড়ে গেছে। এখন ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জিনিস সংগ্রহ করে বিক্রি করতে চান তিনি। যদি কিছু টাকা জোগাড় হয়, তাহলে ঈদের পর অন্তত গ্রামে ফিরে যেতে পারবেন।
আসমার কণ্ঠে ক্লান্তি, অসহায়ত্ব আর মেনে নেওয়ার যন্ত্রণা। তিনি বললেন, ‘এই ফ্লাইওভারের নিচেই কাটবে ঈদ।’
গতকাল সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আজাদ আনোয়ার জানান, নিয়ন্ত্রণকক্ষ রাত ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায়। বস্তিটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর ও ভাঙারির দোকান ছিল। সেখানে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বাস করতেন।
আগুন এখন নিভে গেছে। কিন্তু কালশীর এই মানুষগুলোর চোখে এখনো জ্বলছে হারানোর দগদগে স্মৃতি।






