র্যাব মহাপরিচালক
বর্ষবরণে কোনো হুমকি নেই, খবর পেলেই ব্যবস্থা

ছবিঃ আগামীর সময়
আগামীকাল পহেলা বৈশাখ, দেশ জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। যেকোনো উৎসব ঘিরেই থাকে নিরাপত্তার শঙ্কা। তবে বরাবরের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফ কথা, অপরাধ হলেই নেওয়া হবে ব্যবস্থা। উৎসব ঘিরে যে ধরনের উগ্রপন্থির হুমকি থাকে এবার তা নেই বলে জানাচ্ছে র্যাব।
সোমবার ঢাকার রমনায় সংবাদ সম্মেলনে এলেন র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। বললেন, ‘বর্ষবরণে কোনো গোষ্ঠী যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য র্যাবের গোয়েন্দা রয়েছে নজরদারি।’
ঢাকাসহ দেশ জুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে করলেন আশ্বস্ত। সঙ্গে এও বললেন, ‘ভার্চুয়াল জগতে গুজব, উসকানিমূলক তথ্য, মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়গুলোতে সার্বক্ষণিক নজর দিচ্ছে সাইবার মনিটরিং টিম।’
‘নববর্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের দেশব্যাপী ১৫টি ব্যাটালিয়ন নিয়োজিত থাকবে। অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে র্যাবের সব ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে।’ যোগ করেন আহসান হাবীব পলাশ।
তার সংযোজন, ‘১৮১টি পিকআপ টহল, ১২৭টি মোটরসাইকেল টহলসহ ৩০৮টি টহল ও সাদা পোশাকে নজরদারিসহ র্যাবের সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।’
কোনো ধরনের হেনস্তার শিকার হলে অবশ্যই কর্তব্যরত র্যাব বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে জানাবেন
‘টিএসসি, শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শিশু একাডেমি, রমনা বটমূলসহ রাজধানীর যেসব স্থানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, সেসব স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা, জানালেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং শেষ হয়েছে। পাশাপাশি বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আছে প্রস্তুত।
র্যাবের কন্ট্রোল রুম, প্যাট্রল, মোটরসাইকেল প্যাট্রল, চেকপোস্ট ও সিসিটিভি মনিটরিং। পাশাপাশি যেকোনো নাশকতা-হামলা মোকাবিলায় র্যাব স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডো টিম তৈরি আছে।
বর্ষবরণ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে আসা নারীদের উত্যক্ত, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত জানানোর আহবান র্যাব মহাপরিচালকের।
জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এমন জানিয়ে বলছিলেন, ‘সার্বিক ঝুঁকি রয়েছে এমন কোনো তথ্য পেলে অথবা কোনো ধরনের হেনস্তার শিকার হলে অবশ্যই কর্তব্যরত র্যাব বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে জানাবেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কঠোর হাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেব আইনি ব্যবস্থা।’
আমার কাজ হচ্ছে যখন অপরাধ করবে, অপরাধী পেয়ে যাব তখন আমি তাকে গ্রেপ্তার করব। যার বিরুদ্ধে ১৮টা মামলা সে কীভাবে বাইরে থাকল সেই প্রশ্ন আপনি তাদের করেন
বর্ষবরণের ব্রিফিংয়ের মধ্যেই র্যাব মহাপরিচালক ঢাকার শ্যামলীতে আলোচিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে আটকের কথা জানিয়েছেন। শনিবার কুষ্টিয়ায় এক ‘পীরকে’ মব করে হত্যার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা খোঁজখবর রাখছি। মামলা হলে অভিযুক্তদের নাম দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলছে ঘটনার ছায়াতদন্ত।’
রবিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে ‘আধিপত্যের বিরোধে’ কিশোর গ্যাং 'এলেক্স গ্রুপের' হোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছে এলেক্স ইমনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।
এত মামলার আসামি কীভাবে বাইরে, জানতে চাইলে এ বিষয়ে র্যাব মহাপরিচালকের পাল্টা প্রশ্ন, ‘দায় কি সব পুলিশ নেবে বা র্যাব নেবে?’
তার ভাষ্য, ‘এই প্রশ্নের জবাব আমার কাছে খুঁজলে হবে না। আমি দায় নেবও না। আমার কাজ হচ্ছে যখন অপরাধ করবে, অপরাধী পেয়ে যাব তখন আমি তাকে গ্রেপ্তার করব। যার বিরুদ্ধে ১৮টা মামলা সে কীভাবে বাইরে থাকল সেই প্রশ্ন আপনি তাদের করেন, তাহলে মনে হয় সঠিক জবাব পাবেন। আগে আটক হয়েছে বলেই তো তার বিরুদ্ধে ১৮টা মামলা।’















